দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের বিমানবন্দর
- আপডেট সময় : ০৬:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
দুই বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রী চলাচল প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা ছিল ৬৪ লাখ ৫০ হাজার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৬ লাখে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই (জানুয়ারি থেকে জুন) আন্তর্জাতিক যাত্রী সংখ্যা ৭৯ লাখে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ৯২ শতাংশ যাত্রী হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন। অথচ বিমানবন্দরটির বার্ষিক যাত্রী ধারণক্ষমতা মাত্র ৮০ লাখ, যা বর্তমান চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। ফলে প্রধান এই আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারটিতে প্রতিনিয়ত যাত্রীচাপ, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং সেবার মান নিয়ে ভোগান্তি বাড়ছে।
ওমরাহ পালন, চিকিৎসা, পর্যটন এবং বিদেশগামী কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক আকাশপথে যাত্রীর চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
এছাড়া মহামারির পর ভ্রমণবিধি শিথিল হওয়া এবং নতুন নতুন রুট ও ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধিও এই প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। যাত্রীর চাহিদা বাড়লেও অবকাঠামো এবং দেশীয় এয়ারলাইনসের সক্ষমতা সেই তুলনায় বৃদ্ধি পায়নি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ক্যাপ্টেন একেএম আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, উড়োজাহাজের স্বল্পতার কারণে আকাশপথের বাড়তি চাহিদার পুরো সুফল নিতে পারছে না দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো। অনেক সময় জেদ্দা বা মদিনার মতো গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট না পেয়ে যাত্রীদের বাধ্য হয়ে বিদেশি এয়ারলাইনসের সংযোগকারী ফ্লাইট বেছে নিতে হচ্ছে। বর্তমানে বিমান বাংলাদেশের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও, আরও ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘমেয়াদি। এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বহর সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে বাড়তি চাহিদার বড় অংশ কাজে লাগাচ্ছে বিদেশি বিমান সংস্থাগুলো। আরও ৩৫টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও বোয়িংয়ের সরবরাহ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে এবং এয়ারবাসের সরবরাহ ২০৩৩ সালে শুরুর কথা রয়েছে।
দেশের আটটি বিমানবন্দর থাকলেও সিংহভাগ আন্তর্জাতিক যাত্রী ঢাকা কেন্দ্রিক হওয়ায় শাহজালালে চাপ সবচেয়ে বেশি। একটি রানওয়ে দিয়ে কার্যক্রম চালানো, ট্রলির সংকট এবং মালামাল পেতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ার মতো সমস্যাগুলো যাত্রীদের প্রতিনিয়ত ভোগাচ্ছে। পরিস্থিতি উত্তরণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে বড় আশা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বেবিচকের সদস্য (এয়ার ট্রাফিক) এয়ার কমোডর মো. নূর-ই-আলম জানান, তৃতীয় টার্মিনালের নকশা করা হয়েছে এক কোটির বেশি যাত্রী হ্যান্ডল করার সক্ষমতা রেখে, যা প্রয়োজনে বছরে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত করা সম্ভব। আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি আংশিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রাথমিকভাবে সেখান থেকে ২০টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা থাকলেও, সামগ্রিক যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও জনবল বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে যাত্রী চলাচলের এই প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়েনি দেশের বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও সেবার সক্ষমতা। অন্যদিকে, বিমানবন্দরের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ।























