ঢাকা ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও জাপান অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও জাপানের নতুন অংশীদারত্ব জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ফিরলেন আটকে থাকা ৪০ ওমরাহযাত্রী মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে একমত সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান-ইরান মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যের ডাক দিলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফেনীতে প্রবাসীর কলোনীর ভাড়া তুলে নেওয়ার ঘটনায় তদন্তে পুলিশ ইরানে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের জাপানে সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ সদরদফতর

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও জাপান

  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অঙ্গীকারের কথা জানান। তিনি আরও বলেন, ​আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।

জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই নেতার মধ্যে শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে একে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশগুলোর একটি জাপান। গত ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে মূল্যবান ভূমিকা পালন করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে তিনি অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্তিশালী ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।

তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশ সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সফরকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে সর্বদা পাশে রয়েছে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন এই স্তর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতা শক্তি (এনার্জি), তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরিতে দুই দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ ও জাপান

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

বাণিজ্য, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্র বন্দর এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অঙ্গীকারের কথা জানান। তিনি আরও বলেন, ​আজকের বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং আমি দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি।

জাপানের স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে স্বাগত জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই নেতার মধ্যে শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার লক্ষ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সহযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্কের ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে একে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দেশগুলোর একটি জাপান। গত ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে দেশটি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে মূল্যবান ভূমিকা পালন করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে এই বন্ধুত্বের সম্পর্ককে তিনি অর্থনৈতিক অগ্রগতির শক্তিশালী ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তরেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। একটি শান্তপ্রিয় জাতি হিসেবে, জাপান ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী অন্যতম প্রথম দেশ।

তারেক রহমান জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বাংলাদেশের অফার করা সুযোগগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশ সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। সফরকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক গভীর হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে সর্বদা পাশে রয়েছে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন এই স্তর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

যৌথ বিবৃতিতে দুই নেতা শক্তি (এনার্জি), তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরিতে দুই দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।