ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশি পরিচয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল বিশ্বকাপ: গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের তিন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডিদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল পেকুয়ায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৮৫১ পাখির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত এমিরেটস ফ্লাইট, দিল্লিতে ভোগান্তিতে যাত্রীরা ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা গ্রেপ্তার ববি হাজ্জাজ |: প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কারে পাঁচ বিষয়ে অগ্রাধিকার দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ লোহাগড়ায় পূজামণ্ডপে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের শাড়ি ও চাল বিতরণ

ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশি পরিচয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সোমবার ১৯ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রধান দায়িত্ব। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমাদের ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এ দেশেরই সন্তান। তিনি সব ধরনের ধর্মীয় পরিচয় ভুলে নিজেদের মানুষ হিসেবে দেখার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার তাগিদ দেন। তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নতি ও পরিবর্তন ঘটলে তা সব ধর্মের মানুষের জন্যই সুফল বয়ে আনবে। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেমন ধর্ম দেখা হয় না, তেমনি ভালো থাকার ক্ষেত্রেও এটি কোনো বিভাজক হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনার লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—কেউ আলাদা পরিচয় দেখেনি। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ রাজপথে সক্রিয় ছিল। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনও জিজ্ঞেসও করিনি। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছিল, মানুষ যখন তার রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল, তখনও কিন্তু। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্যগুলো ভেসে ওঠে।’ তিনি সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং এই উৎসবকে একটি আনন্দের আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন। আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশি পরিচয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সোমবার ১৯ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সব ধর্মের মানুষকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানুষের ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, রাষ্ট্রের কাছে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রধান দায়িত্ব। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ভিত্তিতে নয়, বরং সবাইকে বাংলাদেশি হিসেবে বিবেচনা করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশটিকে গড়ি। রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া, ঠিক একইভাবে এই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে আমাকেও নিরাপত্তা দেওয়া। আমরা একে অপরের সঙ্গে কাজ করে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাব। একজন আরেকজনকে আমরা চিনি, জানি এই দেশের নাগরিক, বাংলাদেশি হিসেবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার। আমাদের ধর্ম আলাদা হতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্র সবার।’ তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ এ দেশেরই সন্তান। তিনি সব ধরনের ধর্মীয় পরিচয় ভুলে নিজেদের মানুষ হিসেবে দেখার এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার তাগিদ দেন। তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নতি ও পরিবর্তন ঘটলে তা সব ধর্মের মানুষের জন্যই সুফল বয়ে আনবে। কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেমন ধর্ম দেখা হয় না, তেমনি ভালো থাকার ক্ষেত্রেও এটি কোনো বিভাজক হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই দেশটিতে আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও অধিকার আছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে আনার লড়াইয়ে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তখন হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিস্টান—কেউ আলাদা পরিচয় দেখেনি। তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষ রাজপথে সক্রিয় ছিল। এমনকি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও সব ধর্মের মানুষের আত্মত্যাগ ও অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই যুদ্ধে যখন এই দেশের মানুষ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার সূর্যকে ছিনিয়ে আনার জন্য, তখন কিন্তু আমরা কেউ দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু। যুদ্ধের মাঠে কিন্তু এটা আমরা দেখিনি, কখনও জিজ্ঞেসও করিনি। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছিল, মানুষ যখন তার রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল, তখনও কিন্তু। কেউ কি আমরা কাউকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই আপনি কোন ধর্মের মানুষ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিন তো সব ধর্মের মানুষই ছিল। চোখ বন্ধ করলেই সেই দৃশ্যগুলো ভেসে ওঠে।’ তিনি সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং এই উৎসবকে একটি আনন্দের আয়োজন হিসেবে উল্লেখ করেন। আজকেই আমি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করে এসেছি।