নতুন তথ্য: বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ ছাড়ছেন সালমান এফ রহমান
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 20
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান। উল্লেখ্য, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সম্প্রতি পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এক আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে অবহিত করেছে বেক্সিমকো ফার্মা কর্তৃপক্ষ।
বিএসইসিকে দেওয়া চিঠিতে বেক্সিমকো ফার্মা জানিয়েছে যে, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করার ব্যাপারে সালমান এফ রহমান ইতিমধ্যেই তার সম্মতি প্রদান করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সালমান এফ রহমান গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার এই অনুপস্থিতি ও পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ নতুন করে পুনর্গঠন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন পরিচালনা পর্ষদের কাঠামো কেমন হবে, সে বিষয়েও বিএসইসিকে বিস্তারিত জানিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বেক্সিমকো ফার্মার মূল উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে বোর্ডে রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি চারজন স্বতন্ত্র পরিচালককে বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষ থেকে মনোনীত একজন পরিচালক এবং পদাধিকারবলে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই নতুন পর্ষদে স্থান পাবেন। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এভাবে পর্ষদ পুনর্গঠনের ব্যাপারে বিএসইসির পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সম্মতি
- বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থানবেক্সিমকো ফার্মার বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও কোম্পানির ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুনাম বজায় রাখার উদ্দেশ্যে সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত পোষণ করেছেন।
- লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের নিয়মলন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হওয়ায় নতুন পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ ও কঠোর যাচাই-বাছাই বা ডিউ ডিলিজেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
- যাচাই-বাছাইয়ের সময়সীমানতুন পরিচালকদের ব্যাকগ্রাউন্ড ও যোগ্যতা যাচাইয়ের এই আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে বিএসইসিকে জানানো হয়েছে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের কঠোর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে পরিচালক পদে স্থলাভিষিক্ত বা নিয়োগ দেওয়ার আগে তার সার্বিক তথ্য যাচাই-বাছাই করা বাধ্যতামূলক। এই কারণেই পর্ষদ পুনর্গঠনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে বলে কোম্পানির নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় এই ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা এখনও বেশ সুসংহত রয়েছে। বেক্সিমকো ফার্মার সর্বশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটি ২২২ কোটি টাকা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এর আগে, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় কোম্পানিটির বার্ষিক মুনাফা ছিল ৬৯৪ কোটি টাকা। ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই এই পর্ষদ পুনর্গঠন দ্রুত সম্পন্ন করতে চায় কোম্পানিটি।


























