ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নরসিংদীতে বিতর্কিত আয়োজনে সংসদ সদস্যের সামনে মামলার আসামিদের সরব উপস্থিতি

  • আপডেট সময় : ০১:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 20
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চাঞ্চল্যকর এক হত্যা মামলার আসামিদের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছেন। গত শনিবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জব্বার মিয়ার পারিবারিক ওই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাংসদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের ছবি ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, খোকন মিয়া ও তারা মিয়া নামে দুই ব্যক্তি সাংসদকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এদের দুজনেই নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির সরকার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল আলোকবালী এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইউপি সদস্য আমির সরকারকে। নিহতের পরিবারের দায়ের করা সেই মামলায় খোকন মিয়া ও তারা মিয়াসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে মামলার নথিপত্রে এই আসামিদের পলাতক হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। আইনত পলাতক আসামিরা কীভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে কোনো প্রকার ভীতি ছাড়াই রাজনৈতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধির সামনে আসতে পারলেন, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, আসামিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে কীভাবে এমন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকছেন এবং তারা কাদের প্রশ্রয়ে এসব কাজ করার সাহস পাচ্ছেন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা জব্বার মিয়াও মামলার বাইরে নন। তার বিরুদ্ধে নিহত আমির সরকার হত্যাসহ মোট ৪টি আলাদা হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও মারধরের মতো গুরুতর সব অপরাধের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির আয়োজনে সাংসদের উপস্থিতি এবং অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ স্থানীয় জনমনে গভীর অস্বস্তি তৈরি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এভাবে অপরাধীদের প্রকাশ্যে সান্নিধ্য দেওয়ার ঘটনা সুবিচারের পথকে সংকুচিত করতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সরকার দাবি করেন, আয়োজক জব্বার মিয়া হত্যা মামলার আসামি কি না সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত দাওয়াতের খাতিরে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, তবে জব্বারকে আমি চিনতাম না। সাংসদকে যারা ফুল দিয়েছেন, তারা মামলার আসামি কি না তাও আমার জানা ছিল না।’ তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কাইয়ুম মিয়া এই আয়োজনের মাধ্যমে সাংসদকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কাইয়ুম মিয়াকে সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল আলোকবালীতে ইউপি সদস্য আমির সরকারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

নরসিংদীতে বিতর্কিত আয়োজনে সংসদ সদস্যের সামনে মামলার আসামিদের সরব উপস্থিতি

আপডেট সময় : ০১:১৮:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে চাঞ্চল্যকর এক হত্যা মামলার আসামিদের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছেন। গত শনিবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নে ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জব্বার মিয়ার পারিবারিক ওই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাংসদের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের ছবি ও স্থানীয়দের তথ্যমতে, খোকন মিয়া ও তারা মিয়া নামে দুই ব্যক্তি সাংসদকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এদের দুজনেই নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির সরকার হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল আলোকবালী এলাকায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইউপি সদস্য আমির সরকারকে। নিহতের পরিবারের দায়ের করা সেই মামলায় খোকন মিয়া ও তারা মিয়াসহ মোট ১২ জনকে আসামি করা হয়। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে মামলার নথিপত্রে এই আসামিদের পলাতক হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। আইনত পলাতক আসামিরা কীভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে কোনো প্রকার ভীতি ছাড়াই রাজনৈতিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে একজন জনপ্রতিনিধির সামনে আসতে পারলেন, তা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, আসামিরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে কীভাবে এমন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকছেন এবং তারা কাদের প্রশ্রয়ে এসব কাজ করার সাহস পাচ্ছেন।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা জব্বার মিয়াও মামলার বাইরে নন। তার বিরুদ্ধে নিহত আমির সরকার হত্যাসহ মোট ৪টি আলাদা হত্যা মামলার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও মারধরের মতো গুরুতর সব অপরাধের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির আয়োজনে সাংসদের উপস্থিতি এবং অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ স্থানীয় জনমনে গভীর অস্বস্তি তৈরি করেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এভাবে অপরাধীদের প্রকাশ্যে সান্নিধ্য দেওয়ার ঘটনা সুবিচারের পথকে সংকুচিত করতে পারে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে নরসিংদী সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন সরকার দাবি করেন, আয়োজক জব্বার মিয়া হত্যা মামলার আসামি কি না সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত দাওয়াতের খাতিরে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, তবে জব্বারকে আমি চিনতাম না। সাংসদকে যারা ফুল দিয়েছেন, তারা মামলার আসামি কি না তাও আমার জানা ছিল না।’ তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কাইয়ুম মিয়া এই আয়োজনের মাধ্যমে সাংসদকে একটি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কাইয়ুম মিয়াকে সতর্ক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ এপ্রিল আলোকবালীতে ইউপি সদস্য আমির সরকারকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।