নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় জিয়াউল আহসানের ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রস্তাব
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত আলোচিত গুমের ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। প্রায় শতাধিক ব্যক্তির গুম সংক্রান্ত এই মামলায় এখন শুধু যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বাকি রয়েছে, যার পরেই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এদিকে, বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে শুনানির সময় জিয়াউল আহসান নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। আদালতকে তিনি জানান, কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে যাতায়াতের পথে প্রিজন ভ্যানে তাকে একাই বহন করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, এই সুযোগে পথে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে এর দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে।
জিয়াউল আহসানের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, আসামির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি থাকলে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, রাষ্ট্রপক্ষ তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। আসামির ভার্চ্যুয়াল শুনানির ক্ষেত্রে তাদের কোনো আপত্তি নেই। অন্যদিকে, জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার ও তার আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন যে, একা প্রিজন ভ্যানে পরিবহন করাটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে, যা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ।
এর আগে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে আদালতে হাজির করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরানো হতো। তবে সম্প্রতি তাকে প্রিজন ভ্যানে একা আনা-নেওয়া করার বিষয়ে নতুন করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালে আলোচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, এই একই মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে চিকিৎসার জন্য সিএমএইচে পাঠানোর আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। এই আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৩ই অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

























