নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার
- আপডেট সময় : ১০:৫৫:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হলেও খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে মিলছে না ১২ কেজির সিলিন্ডার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা। একদিকে বাড়তি খরচের চাপ এবং অন্যদিকে সরবরাহ সংকটের কারণে রান্নার কাজে গ্যাস ব্যবহারকারী পরিবার, হোটেল মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আহমেদ সোহেল পরিবারের রান্নার কাজে প্রতি মাসে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে তাঁদের তিনজনের পরিবার।
সর্বশেষ সোমবার (২ নভেম্বর) বিইআরসি ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা ওইদিন রাত ৮টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। এর আগে গত ৪ অক্টোবর একই পরিমাণ সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সিলিন্ডারের এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব কেবল ১২ কেজি নয়, বরং ৫ থেকে ৪৫ কেজি পর্যন্ত সব ধরনের সিলিন্ডারের ওপর পড়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের ২ ও ৬ নম্বর সেকশন, আগারগাঁও এবং রামপুরা এলাকার ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে বাজারে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা আহমেদ সোহেলের মতে, গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ার ফলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। আগে সরকারি দামের চেয়ে কিছুটা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হলেও এখন নতুন দামের পরিপ্রেক্ষিতে বিক্রেতারা আরও বেশি অর্থ দাবি করছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুরের ২ ও ৬ নম্বর এবং আগারগাঁও, রামপুরা এলাকার ক্রেতা, ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
মিরপুর-২ নম্বর এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সরাসরি ডিলার থেকে কিনতে না পারায় খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে বাড়তি মূল্যে গ্যাস সংগ্রহ করতে হয়। তাঁর হোটেলে প্রতিদিন দুটি চুলায় দুটি সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয়। পরোটা বা রুটি তৈরির উপকরণের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্যাসের এই বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে মুনাফা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দাম বাড়ালে ক্রেতা হারানোর ভয় আর না বাড়ালে লোকসান—এমন দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন তিনি। এর সঙ্গে ময়দাসহ অন্যান্য উপকরণের দামও বেড়েছে।
আগারগাঁওয়ের চা দোকানি ফখরুদ্দীনের অভিজ্ঞতাও অভিন্ন। বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে তাঁকে, যা ১১ থেকে ১৩ দিন ব্যবহারের পর শেষ হয়ে যায়। নতুন করে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীতে সিলিন্ডারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা খরচ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। চায়ের কাপের দাম বাড়ানো সম্ভব নয় বলে গ্যাসের এই বাড়তি খরচ অন্য পণ্যের ব্যবসা থেকে সমন্বয়ের চেষ্টা করছেন তিনি। তিনি বলেন, আগে ১২ কেজির সিলিন্ডারের সরকারি দাম ১ হাজার ৮০০ টাকার মতো থাকলেও কিনতে হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। তাঁর ভাষ্য, আগে সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮৫০ টাকার মতো থাকলেও ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। বর্তমানে ১০ টাকা করে পরোটা বিক্রি করলেও বাড়তি খরচে এই দামে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সেটি দিয়ে ১১ থেকে ১৩ দিন চলে।
তবে বিক্রেতাদের দাবি, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই তাঁরা বাড়তি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মিরপুর-৬ নম্বর এলাকার সাফোয়ান এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা মো. মামুন জানান, পেট্রোম্যাক্স ও আই গ্যাসের দাম ২ হাজার ৩০০ টাকা এবং ইউনি গ্যাসের সিলিন্ডার রিফিলের ক্ষেত্রে খরচ ২ হাজার ৫০০ টাকা পড়ছে। তাঁর ভাষ্যমতে, একটি সিলিন্ডারে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করার চেষ্টা করেন তাঁরা, কিন্তু খুচরা বাজারে সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি পর্যায়েই উচ্চমূল্য দিতে হয়। এর ওপর বিভিন্ন কোম্পানির সিলিন্ডার বিনিময়যোগ্য না হওয়ায় ক্রেতাদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হয়। ফলে বোতল বিনিময় নিয়েও ক্রেতাদের সঙ্গে ঝামেলা তৈরি হচ্ছে।























