নির্বাচন পরবর্তী ইরানে সামরিক হামলার ছক কষছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল
- আপডেট সময় : ১১:৫৩:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন ও ইসরাইল। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি কিন্তু তীব্র সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বর্তমানে নিয়মিত সামরিক মহড়া জোরদার করেছে। বিশেষ করে ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের অভ্যন্তরে কীভাবে আকাশপথে হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে সামরিক কৌশলের অনুশীলন করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এই মহড়া এবং প্রস্তুতির মানে এই নয় যে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে। সবকিছুর চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিশাল মজুত। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের বড় মাপের হামলা ইরানের অর্থনীতিকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এর ফলে তেহরান কূটনৈতিক আলোচনায় কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দিতে বাধ্য হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে হামলার সম্ভাব্য ফলাফল বা ইরানের দিক থেকে পাল্টা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।
নির্বাচন সামনে রেখে ইরান নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান বেশ সংবেদনশীল। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে কোনো সামরিক হামলা চালাবে না। এমনকি তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন। নির্বাচনপূর্ব সময়ে হামলা না চালানোর সেই ঘোষণার পরও নতুন করে এই সামরিক প্রস্তুতির খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অক্টোবরেই হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা হচ্ছে না, যদিও এই সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইল সফর করেছেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের মাধ্যমেই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
পুরো পরিকল্পনাটি মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে খর্ব করা এবং অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে তাদের আলোচনার টেবিলে নমনীয় করে তোলাই মূল কৌশল। ইরানের আকাশসীমা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ঘিরে চলা এই তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলছে।






















