ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গে নতুন চারটি বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ

  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / 2
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী দুই বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের চারটি বিমানবন্দর থেকে নতুন করে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার কলকাতার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী কিনজারাপ্পু রামমোহন নায়ডুর সঙ্গে রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের এ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় পুরুলিয়ার ছড়রা, বালুরঘাট এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা ও আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, অতীতে রাজ্যে বিমানবন্দরের সংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীর থাকলেও বর্তমানে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে গতি এসেছে। রাজ্য সরকার অবকাঠামো উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, যার অংশ হিসেবে হাসিমারায় ২৫ একর এবং কলাইকুন্ডায় ৩৭ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই বিমানঘাঁটিগুলোতে নিয়মিত বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ চলাচল করে এবং বোয়িং ও এয়ারবাসের মতো বড় বিমান ওঠানামার মতো রানওয়ে সেখানে বিদ্যমান। পর্যায়ক্রমে সেখানে প্রয়োজনীয় টার্মিনাল ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া বালুরঘাট বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পুরুলিয়ার ছড়রায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের কাজও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিমানবন্দরের সংখ্যা তেমন বাড়েনি।

রাজ্যে ছোট ও মাঝারি বিমানবন্দরগুলোকে উৎসাহিত করতে ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ছোট শহরগুলো থেকে নতুন রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকার ভর্তুকি প্রদান করবে, যা সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করবে। এদিকে যাত্রীচাপ সামলাতে কলকাতার উপকণ্ঠে দ্বিতীয় একটি বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও এগিয়ে চলেছে। কল্যাণীতে জমি চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষাসহ প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা হয়েছে। কলকাতার বর্তমান বিমানবন্দরের ওপর যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকায় শহরের কাছাকাছি একটি দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

বৈঠকে রাজ্যের পক্ষ থেকে কলকাতা থেকে লন্ডন ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর দাবি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে এই রুটে ফ্লাইট চললেও যাত্রী সংকটে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউরোপীয় গন্তব্যগুলোতে পুনরায় সরাসরি বিমান সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে তিনি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করবেন। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের বিমান যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে নতুন চারটি বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৭:৪১:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

আগামী দুই বছরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের চারটি বিমানবন্দর থেকে নতুন করে যাত্রীবাহী ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সোমবার কলকাতার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী কিনজারাপ্পু রামমোহন নায়ডুর সঙ্গে রাজ্য পরিবহণ দপ্তরের এ বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় পুরুলিয়ার ছড়রা, বালুরঘাট এবং ভারতীয় বিমানবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুন্ডা ও আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা থেকে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী জানিয়েছেন, অতীতে রাজ্যে বিমানবন্দরের সংখ্যা বৃদ্ধির হার ধীর থাকলেও বর্তমানে বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণে গতি এসেছে। রাজ্য সরকার অবকাঠামো উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে, যার অংশ হিসেবে হাসিমারায় ২৫ একর এবং কলাইকুন্ডায় ৩৭ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই বিমানঘাঁটিগুলোতে নিয়মিত বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ চলাচল করে এবং বোয়িং ও এয়ারবাসের মতো বড় বিমান ওঠানামার মতো রানওয়ে সেখানে বিদ্যমান। পর্যায়ক্রমে সেখানে প্রয়োজনীয় টার্মিনাল ও অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া বালুরঘাট বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পুরুলিয়ার ছড়রায় নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের কাজও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কেন্দ্রীয় বিমানমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিমানবন্দরের সংখ্যা তেমন বাড়েনি।

রাজ্যে ছোট ও মাঝারি বিমানবন্দরগুলোকে উৎসাহিত করতে ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ছোট শহরগুলো থেকে নতুন রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে কেন্দ্রীয় সরকার ভর্তুকি প্রদান করবে, যা সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করবে। এদিকে যাত্রীচাপ সামলাতে কলকাতার উপকণ্ঠে দ্বিতীয় একটি বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও এগিয়ে চলেছে। কল্যাণীতে জমি চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে মাটি পরীক্ষাসহ প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ‘উড়ান ২.০’ প্রকল্পেও পশ্চিমবঙ্গকে যুক্ত করা হয়েছে। কলকাতার বর্তমান বিমানবন্দরের ওপর যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকায় শহরের কাছাকাছি একটি দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

বৈঠকে রাজ্যের পক্ষ থেকে কলকাতা থেকে লন্ডন ও ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর দাবি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে এই রুটে ফ্লাইট চললেও যাত্রী সংকটে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, ইউরোপীয় গন্তব্যগুলোতে পুনরায় সরাসরি বিমান সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে তিনি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা শুরু করবেন। এর ফলে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের বিমান যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।