পাকিস্তানের আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা: রূপপুরের ইউরেনিয়াম আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত রাশিয়ার পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামবাহী কার্গো বিমানটি সময়মতো বাংলাদেশে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর চালানটি আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না মেলায় তা আটকে যায়। এই জটিলতা নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানান, বিমানটিকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। তবে পাকিস্তান কেন এমন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।
প্রভাবিত এই চালানটির নতুন সময়সূচি নিয়ে আলোচনার পর রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে এটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, বিমানবন্দরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছিল। কিন্তু রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তারা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার কথা জানানোর পরপরই পুরো প্রক্রিয়াটি থমকে যায়। কোন পক্ষ থেকে এই বাধা দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে এএনআই থেকে রোসাটমের এক প্রতিনিধির কাছে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে ইউরেনিয়াম পাঠানো সম্ভব হয়নি এবং নতুন করে সময়সূচি নির্ধারণ করতে হতে পারে। তবে কোন দেশ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারেননি। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের প্রথম প্রকল্প। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে এখানে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি ভিভিইআর-১২০০ ইউনিটের কাজ চলছে। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম চালানটি সফলভাবে বাংলাদেশে পৌঁছায়। সেসময় রাশিয়ার নোভোসিবিরস্ক কেমিক্যাল কনসেনট্রেটস প্ল্যান্টে উৎপাদিত ১৬৪টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি একটি কার্গো বিমানে সরাসরি ঢাকায় আনা হয়েছিল। প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় প্রজন্মের দুটি ভিভিইআর-১২০০ পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রথম চালানটি পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রেখে বিশেষ বিকিরণ-সুরক্ষিত কনটেইনারে করে তা ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্পে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জ্বালানি হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম আনার ক্ষেত্রে আকাশসীমা সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন তারিখ অনুযায়ী চালানটি সংগ্রহের অপেক্ষায় রয়েছে।























