পিবিআই কর্মকর্তাদের জন্য ফরেনসিক প্রশিক্ষণ শুরু করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
- আপডেট সময় : ০৪:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তাদের অপরাধ তদন্তে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাঁচ দিনব্যাপী এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেনসিক সায়েন্স অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি (আইএফএসসিএস)-এর উদ্যোগে ‘অ্যাপ্লিকেশন অব ফরেনসিক সায়েন্স ইন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস: ফ্রম ক্রাইম সিন টু দ্য কোর্টরুম’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণটি গত রোববার শুরু হয়েছে, যা ১ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এতে পিবিআইয়ের ৩০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করছেন।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী আয়োজনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য ড. আমানুল্লাহ বলেন, একটি মামলার তদন্তে সামান্য আলামতও বড় সূত্র হয়ে উঠতে পারে। অপরাধস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের প্রতিটি ধাপে তদন্তকারীদের অত্যন্ত সতর্ক ও দক্ষ হতে হবে। বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরনে প্রযুক্তির ব্যাপক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রচলিত তদন্ত পদ্ধতির পাশাপাশি ফরেনসিক বিজ্ঞান, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তবে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি এর সীমাবদ্ধতা ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কেও কর্মকর্তাদের গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি। তিনি বলেন, বর্তমানে অপরাধের ধরন যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। ডিজিটাল ডিভাইস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে তদন্তে ডিজিটাল আলামতের গুরুত্বও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিএনএ, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফরেনসিক প্যাথলজি, ডিজিটাল ফরেনসিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি তদন্তে ন। একই সঙ্গে শারীরিক ও ডিজিটাল প্রমাণ যথাযথভাবে শনাক্ত ও বিশ্লেষণ এবং তদন্ত থেকে আদালত পর্যন্ত এসব প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করাও এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে বাস্তব সমস্যা সমাধানে ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. আমানুল্লাহ আরও জানান, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে এমন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও গবেষণাকে দেশের সেবায় কাজে লাগানোর একটি অংশ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের প্রয়োগমুখী প্রশিক্ষণ সেই লক্ষ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
পাঁচ দিনের এই কর্মশালায় মোট ২৪টি সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে অপরাধস্থল ব্যবস্থাপনা, আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, চেইন অব কাস্টডি, ফরেনসিক ডিএনএ, টক্সিকোলজি এবং ডিজিটাল প্রমাণের গুরুত্বের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও ‘ফরেনসিক ফাইন্ডিং থেকে জুডিশিয়াল ফাইন্ডিং’, ‘অপরাধ তদন্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার’, ‘ফরেনসিক রিপোর্ট ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষ্য’ এবং ‘পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও মানবাধিকার’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা রিসোর্স পারসন হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সিনিয়র জেলা জজ আবু সায়েদ দিলজার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত আইজিপি ড. মো. মতিয়ার রহমান, আইএফএসসিএস-এর প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম, অতিরিক্ত ডিআইজি জান্নাতুল হাসান, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব ড. উম্মে শারাবান তাহুরা এবং সিনিয়র সহকারী সচিব সাঈদ মো. সাফায়েত। এছাড়াও পিবিআই, সিআইডি ও পুলিশ হাসপাতালের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করছেন। যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথের লেকচারার ড. হেলেন আরওয়াকার অনলাইনে ‘সিগনিফিকেন্স অ্যান্ড ইমপ্যাক্ট অব ফরেনসিক ইভিডেন্স’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন। স্পেশাল ব্রাঞ্চের অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম, রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ডা. নন্দিতা মালাকার, সিআইডির সাথী রানি শর্মা, ক্রাইম সিন ইউনিটের গাজী গোলাম দস্তগীর, সিআইডির ফরেনসিক ইউনিটের এ বি এম আতিকুর রহমান।
এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কোর্স কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিন কাশেম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সনদপত্র প্রদান করা হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ও আইএফএসসিএস-এর প্রভাষক খাতুনে জান্নাতের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের ডিআইজি সুজায়েত ইসলাম, ডিআইজি আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত ডিআইজি আলিমুজ্জামান, কোর্স পরিচালক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
























