পুলিশ বল প্রয়োগে ফ্যাসিবাদী, না করলে দুর্বল: আইজিপি
- আপডেট সময় : ০৪:০১:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা পুলিশ লাইনসে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি মন্তব্য করেন, পুলিশ যখন আইন প্রয়োগে কঠোর হয় তখন তাদের ফ্যাসিবাদী তকমা দেওয়া হয়, আবার কঠোর না হলে পুলিশকে দুর্বল মনে করা হয়। গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে একটি জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলাই বর্তমান লক্ষ্য। আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।
কেএমপি কমিশনার সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে এই সমাবেশে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট ডিআইজি এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে খুলনা অঞ্চলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইজিপি জানান, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং এসব অপরাধ নির্মূলে পুলিশ ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
অপরাধ দমনে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে জড়িত অনেকেরই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ক্ষমতাসংশ্লিষ্টতা রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ ভয়ে থানায় অভিযোগ করতে সাহস পায় না। এ সমস্যার সমাধানে ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বিদ্যমান আইন সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে নতুন আইন কবে নাগাদ কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করেননি। আগামী কিছুদিনের মধ্যে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগের অগ্রগতি দেখা যাবে। তাদের ভয়ে কেউ সাক্ষ্য দিতে চান না, থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পান না।
পুলিশের গোয়েন্দা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর পুলিশ সক্রিয় হলেও প্রতিরোধমূলক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।
পুলিশের সোর্সগুলো কার্যকর হলে অপরাধের তৎপরতা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো। এছাড়া চাঁদাবাজদের শনাক্ত করতে ডিজিটাল প্রমাণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে পুলিশ মনোবল ফিরে পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে এবং আগের তুলনায় অপরাধ পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছে।
কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা নিয়ে আইজিপি বলেন, অতীতে পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রামের (পিআরপি) আওতায় পরিচালিত এই ব্যবস্থায় কিছু দুর্বলতা ছিল, যেখানে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। ভবিষ্যতে এমন হয়রানি ঠেকাতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা হবে। এখন কমিউনিটি পুলিশিংকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে পুলিশের একটি আইনি শাখা হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কেউ কেউ পুলিশের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতেন।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পরও অনেকে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। আইজিপি সাংবাদিকদেরও এই কার্যক্রমে অংশ নিয়ে পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বেকারত্বসহ সামাজিক সমস্যার সমাধান রাতারাতি সম্ভব না হলেও, পুলিশ জনগণের আস্থা অর্জনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
























