প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ
- আপডেট সময় : ০৪:১৬:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নেওয়ায় সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এর আগে সকালে নিজের ফেসবুক পেজে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। জানা গেছে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, এখন থেকে ঢাকা-৬ আসনসহ আশপাশের এলাকায় মাদক নির্মূল ও স্থানীয় জনজীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে পূর্ণ সময় কাজ করতে চাই। তিনি আমার প্রস্তাবে সদয় সম্মতি দিয়েছেন এবং এলাকায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।’ আমি উনাকে বলেছি পুরো সময়টাতে ঢাকা-৬ আসন, পার্শ্ববর্তী এলাকা, পরবর্তীতে আরও যদি এলাকা থাকে সেখানকার মাদক নির্মূল এবং আমাদের জাতীয় জনজীবনের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। তিনি বলেছেন, ঠিক আছে যাও, এলাকা ঠিক কর, এলাকায় কাজ কর।’।
গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকা প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, নিরাপত্তার প্রয়োজনে তিনি অস্ত্রটি কাছে রেখেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তা আর দেখা যায়নি। তিনি বলেন, ‘অভিযানের সময় আমার দ্বারা কেউ ভুলবশত আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকলে আমি তার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। তবে আমি বিশ্বাস করি, সেদিন কোনো ভুল কাজ করিনি।’ তিনি দাবি করেন, স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না বলেই তিনি তাদের অভয় দিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল মাদক কারবারিদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া। আমি কেবল আমার নিরাপত্তার জন্য আমার হাতে অস্ত্রটা যতটুকু সময় প্রয়োজন ততটুকু রেখেছিলাম, পরবর্তীকালে সেটি আর দৃশ্যমান হয়নি’—বলেন তিনি। ইশরাক হোসেন বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই যে আমরা তাদেরকে আইনের হাতে তুলে দেবো, পুলিশের হাতে সোপর্দ করব, কোর্টের মাধ্যমে তাদেরকে শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে মুখ খোলে না বহু বছর, যারা ওখানে বাস করেন। কারণ এদের কাছে অস্ত্র রয়েছে, অর্থ রয়েছে এবং তারা যেকোনো কিছু করতে পারেন, সে কারণে এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারাও মুখ খোলেন না। আমি তাদেরকে ডেকে নিয়ে আসি এবং তাদেরকে কিছুটা হলেও অভয় দেওয়ার চেষ্টা করি।’।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় মাদককে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করেন ইশরাক। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশি আধিপত্যবাদী শক্তি ড্রোন ব্যবহার করে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর দিয়ে দেশে মাদক ছড়াচ্ছে, যার লক্ষ্য হলো তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করা। উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনের সময় ইশরাকের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। অস্ত্র হাতে নিয়ে মাঠে নামা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় বার বার বলেছি যে, পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাদক প্রবেশ করানো হচ্ছে।
























