ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৯৪ বছরের আইনজীবী ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শর্ত ও বাস্তবতা ৩৪ লাখ শিশুর হাম-রুবেলা টিকাদানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় সহায়তা রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন সম্ভব নয়: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা

ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৯৪ বছরের আইনজীবী

  • আপডেট সময় : ১১:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি ও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণের দায়ে ৯৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী মার্গারেট ওয়েনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনের বাইরে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে তিনি একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন। পেশাগত জীবনে দীর্ঘসময় মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মার্গারেট ওয়েন ২০১৩ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ‘ওবিই’ সম্মাননা পেয়েছিলেন। তিনি মূলত নারীদের অধিকার এবং বিশেষ করে বিধবাদের অধিকার সুরক্ষায় অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি পান।

ওয়েন ব্যক্তিগতভাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রয়াত মা ম্যারিয়ন কোজাকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ম্যারিয়ন কোজাক ইহুদি হওয়ার পরও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং ১৯৪৮ সালের নাকবার ঘটনা অনেক আগেই গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। মিলিব্যান্ডের সঙ্গে ওয়েনের ব্যক্তিগত সম্পর্কও রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পটভূমি সম্পর্কে মার্গারেট ওয়েন জানান, ব্রিটিশ সরকার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকেই তিনি সংগঠনটির সমর্থনে নিয়মিত প্রতিবাদ করে আসছিলেন। লন্ডনে আয়োজিত প্রায় এক ডজন বিক্ষোভে তিনি অংশ নিয়েছেন, যেখানে তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’। এমনকি তিনি নিজের বাসার জানালাতেও একই ধরনের পোস্টার ঝুলিয়েছিলেন এবং পুলিশকে নিজের ছবি পাঠিয়ে গ্রেপ্তারের আহ্বানও জানিয়েছিলেন। এরপর সংগঠনটির সমর্থনে প্রকাশ্যে বক্তব্য বা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করাও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

লিভারপুলের বিক্ষোভে পুলিশ মার্সিসাইড পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে লেখা বা সামগ্রী বহনের অভিযোগে সর্বমোট ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৭৯ জনের বিরুদ্ধে সমন জারির প্রক্রিয়া চলছে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন মূলত ইসরাইলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ ও অভিযান পরিচালনার জন্য পরিচিত। আরও ৭৯ জনকে সমনের জন্য রিপোর্ট করা হয়েছে। লিভারপুলের বিক্ষোভে শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করা হয়।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মন্তব্য করেছেন যে, তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সমর্থন করেন। বৃদ্ধ ও ধর্মীয় নেতাদের আটকের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কারও লক্ষ্য ছিল না। তিনি আরও জানান, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

এই গ্রেপ্তারের পর ব্রিটেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করার জন্য গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তবে ব্রিটিশ পুলিশের অবস্থান হলো, তারা আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সম্মান জানায়, কিন্তু কোনো আইন লঙ্ঘিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মিডল ইস্ট আই, আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনাটি দেশটিতে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার ৯৪ বছরের আইনজীবী

আপডেট সময় : ১১:২৬:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি ও প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থনে আয়োজিত এক বিক্ষোভে অংশগ্রহণের দায়ে ৯৪ বছর বয়সী ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী মার্গারেট ওয়েনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। লিভারপুলে লেবার পার্টির সম্মেলনের বাইরে অনুষ্ঠিত ওই বিক্ষোভে তিনি একটি প্ল্যাকার্ড বহন করছিলেন। পেশাগত জীবনে দীর্ঘসময় মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মার্গারেট ওয়েন ২০১৩ সালে ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে ‘ওবিই’ সম্মাননা পেয়েছিলেন। তিনি মূলত নারীদের অধিকার এবং বিশেষ করে বিধবাদের অধিকার সুরক্ষায় অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি পান।

ওয়েন ব্যক্তিগতভাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের প্রয়াত মা ম্যারিয়ন কোজাকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তার ভাষ্যমতে, হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া ম্যারিয়ন কোজাক ইহুদি হওয়ার পরও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং ১৯৪৮ সালের নাকবার ঘটনা অনেক আগেই গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। মিলিব্যান্ডের সঙ্গে ওয়েনের ব্যক্তিগত সম্পর্কও রয়েছে।

গ্রেপ্তারের পটভূমি সম্পর্কে মার্গারেট ওয়েন জানান, ব্রিটিশ সরকার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর থেকেই তিনি সংগঠনটির সমর্থনে নিয়মিত প্রতিবাদ করে আসছিলেন। লন্ডনে আয়োজিত প্রায় এক ডজন বিক্ষোভে তিনি অংশ নিয়েছেন, যেখানে তার প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি’। এমনকি তিনি নিজের বাসার জানালাতেও একই ধরনের পোস্টার ঝুলিয়েছিলেন এবং পুলিশকে নিজের ছবি পাঠিয়ে গ্রেপ্তারের আহ্বানও জানিয়েছিলেন। এরপর সংগঠনটির সমর্থনে প্রকাশ্যে বক্তব্য বা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করাও আইনি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

লিভারপুলের বিক্ষোভে পুলিশ মার্সিসাইড পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে লেখা বা সামগ্রী বহনের অভিযোগে সর্বমোট ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৭৯ জনের বিরুদ্ধে সমন জারির প্রক্রিয়া চলছে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন মূলত ইসরাইলি অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিবাদ ও অভিযান পরিচালনার জন্য পরিচিত। আরও ৭৯ জনকে সমনের জন্য রিপোর্ট করা হয়েছে। লিভারপুলের বিক্ষোভে শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করা হয়।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড মন্তব্য করেছেন যে, তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সমর্থন করেন। বৃদ্ধ ও ধর্মীয় নেতাদের আটকের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কারও লক্ষ্য ছিল না। তিনি আরও জানান, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

এই গ্রেপ্তারের পর ব্রিটেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শান্তিপূর্ণভাবে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করার জন্য গ্রেপ্তার করা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তবে ব্রিটিশ পুলিশের অবস্থান হলো, তারা আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকারকে সম্মান জানায়, কিন্তু কোনো আইন লঙ্ঘিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মিডল ইস্ট আই, আল-জাজিরা ও দ্য গার্ডিয়ানের তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনাটি দেশটিতে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।