ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে বিদেশি নেতাদের মন্তব্যকে ‘নির্বোধ’ বললেন মাক্রোঁ
- আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে চলমান অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ বেশ কয়েকজন বিদেশি নেতার মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ। তিনি অভিযোগ করেছেন, কিছু বিদেশি নেতা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে ফ্রান্সে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ে বোকামিপূর্ণ মন্তব্য করছেন। কাতারে এক সরকারি সফরকালে সাংবাদিকদের কাছে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মাক্রোঁ। যদিও তিনি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম উচ্চারণ করেননি, তবে তাকে নিয়েও এমন মন্তব্য করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মাক্রোঁ স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নেন যে, ট্রাম্পও অন্যদের তালিকায় রয়েছেন। দোহায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, শনিবারের দাঙ্গার পর ‘তথ্যের কারসাজি’র ফলে ‘বিদেশি নেতাসহ অনেক মানুষের কাছ থেকে এমন মন্তব্য এসেছে, যা যেমন বোকামিপূর্ণ, তেমনই অগ্রহণযোগ্য’।
মাক্রোঁ বলেন, আটলান্টিকের অপর প্রান্তে বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণার মধ্যে থাকা কিছু নেতা প্রকৃত পরিস্থিতি না বুঝেই মিথ্যা বয়ান ছড়াচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে ফ্রান্সকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, এই নেতারা নিজেদের সংকীর্ণ রাজনৈতিক প্রচারণার জন্য ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য মোটেও কাম্য নয়। আমাদের এমনিতেই অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, সেখানে এই ধরনের মন্তব্য পরিস্থিতির অবনতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যার সঙ্গে ফ্রান্সের প্রকৃত ঘটনার কোনো মিল নেই। এছাড়া কিছু ব্যক্তি সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা দাবি করছেন যে, ফ্রান্স অভিবাসী ও ইসলামপন্থি শক্তির আক্রমণের শিকার হয়েছে, যা তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দাবি করেছিলেন যে ফ্রান্স চরমপন্থি ইসলামের আগ্রাসনের কবলে পড়েছে। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্রান্সের এই বিক্ষোভের মূল কারণ অভিবাসীরা—এমন দাবি একেবারেই অমূলক। আসছে সপ্তাহিক ছুটিতে ফ্রান্সে আরও বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতির মধ্যেই মাক্রোঁ বিদেশি নেতাদের এসব মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির এক প্রচারণা সভায় ট্রাম্প ফ্রান্সের সহিংসতার জন্য ‘অভিবাসী, জিহাদপন্থি ও কমিউনিস্টদের’ দায়ী করেন। গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে নির্বাচনের মুখোমুখি হতে যাওয়া ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন যে, ফ্রান্স চরমপন্থি ইসলামের অগ্রাসনের’ শিকার হয়েছে। মাক্রোঁ ও তার সরকার এমন এক সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা তার উত্তরসূরি বাছাইয়ের জন্য নির্ধারিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ছয় মাস আগে দেখা দিয়েছে।

























