বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়েই ৩০ ব্যাংকের এটিএম সেবা বন্ধ
- আপডেট সময় : ১০:২৮:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
দেশের ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক তাদের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সিস্টেম মাইগ্রেশনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ৪ অক্টোবর, রবিবার রাত ৯টা থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর এটিএম, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম), পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং বেশ কিছু কার্ড ও লেনদেন সেবা সীমিত করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, এই কার্যক্রম আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কাজ দ্রুত শেষ হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সেবা পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এই বিশাল পরিসরের প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেশ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন চলছে। এতে অনেক ব্যাংকের সেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, কিন্তু এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আগে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে কোনো কিছু জানানো হয়নি। এ কারণে এসব ব্যাংকের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো- একসঙ্গে ৩০টি ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিষয়টি জানানো হয়নি।
সিস্টেম মাইগ্রেশনের প্রভাবে সেবা বিঘ্নিত হওয়া ব্যাংকগুলোর তালিকায় রয়েছে—বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, বেসিক ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক আলফালাহ, কমিউনিটি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও উরি ব্যাংক বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার কথা জানিয়ে দিয়েছে এবং জরুরি প্রয়োজনে লেনদেনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে, ডেবিট কার্ডের সব লেনদেন বন্ধ করা হয়নি এবং কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম ও পিওএস নেটওয়ার্ক, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যেমন বিকাশ, নগদ ও উপায়ের মাধ্যমে সাধারণ লেনদেন যথারীতি চালু থাকবে। বিশেষ করে জরুরি সময়ে এটিএম থেকে টাকা তোলা, দোকানে কার্ড দিয়ে কেনাকাটা, অনলাইন পেমেন্ট কিংবা কিউআর লেনদেনের প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে।
ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তি বিভাগের দাবি, সিস্টেম আপগ্রেড বা মাইগ্রেশনের সময় কিছু সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রযুক্তিগত উন্নতির একটি নিয়মিত অংশ। তবে একই সময়ে ৩০টি ব্যাংকের সেবা সীমিত হয়ে পড়ায় সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নগদ অর্থ উত্তোলন, অনলাইনে কেনাকাটা বা জরুরি পেমেন্টের ক্ষেত্রে গ্রাহকরা বিড়ম্বনায় পড়তে পারেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্যের সাথে বিকল্প মাধ্যমগুলো ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।


























