বিএনপি আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছিল: জামায়াত আমির
- আপডেট সময় : ০৩:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
নির্বাচনের সময় নানা অনুনয়-বিনয় করে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তারা বলছে, আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। অথচ বাস্তবতা হলো—আপনারা নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। এমনকি নাটোরের সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন, অথচ নিজের দলকে ধন্যবাদ দিতে পারছেন না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন যে হাতে-পায়ে ধরে ভোট নিয়ে এখন বেইমানি করা হচ্ছে। এছাড়া বিএনপি ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়ার পরও আওয়ামী লীগ তাদের ভোট দিয়ে জিতিয়েছে বলে সরকারি দলের নেতারা দাবি করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, বিরোধীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের আঁতাতের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন; বিএনপি বরং নতুন নতুন মনগড়া বয়ান তৈরি করছে।
সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সরকারে ও প্রশাসনে পতিত দলের ক্যাডারদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সদস্যদের স্থান দেওয়া হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য ও চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজির কারণে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। কৃষকের কাছ থেকে অত্যন্ত কম দামে পণ্য কিনলেও ঢাকায় সাধারণ মানুষকে তা অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, পঞ্চগড়ে কৃষক চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হলেও ঢাকায় তা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এছাড়া রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে রাতের আঁধারে লুটপাটের ঘটনাও তিনি তুলে ধরেন। পঞ্চগড়ে দাম না পেয়ে কৃষক চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রি করছে কিংবা ফেলে দিচ্ছে, আর ঢাকায় সাধারণ মানুষকে একটি লাউ কিনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অন্য মন্ত্রণালয় সামলাতে পারদর্শী হলেও নিজের মন্ত্রণালয় পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন। খোদ সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যই জাতীয় সংসদে বলেছেন, মাদকের বড় চালানগুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা দিয়েই আসছে। দেশে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে তিনি বলেন, দিনের বেলাতেও ৫০টি ট্রাকে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র, মাদক ও টাকা প্রবেশ ঠেকাতে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারের অবিলম্বে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারের ব্যর্থতা, চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও সীমান্ত দিয়ে মাদক প্রবেশের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, দেশ চালাতে না পারলে সরকারের অবিলম্বে সরে দাঁড়ানো উচিত।
আন্দোলনের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত বা ১১-দলীয় জোট কোনো সংকীর্ণ স্বার্থে মাঠে নামেনি, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাদের আন্দোলন। তিনি উল্লেখ করেন, গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়ে পুরনো রাজনীতির অবসান চেয়েছে। কোনো অপশক্তির হুমকিতে মাথা নত না করে দেশের স্বার্থে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
























