বিমানবন্দরের চার্জ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা বেবিচকের
- আপডেট সময় : ০২:৫৯:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / 0
দেশের বিমানবন্দরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের অ্যারোনটিক্যাল বা বিমান চলাচল সংক্রান্ত ফি সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এই বাড়তি খরচের ধাক্কা সরাসরি উড়োজাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোর ওপর পড়বে, যার ফলে টিকিটের দাম বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর্থিক চাপে পড়বেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে প্রবাসী কর্মীদের ভ্রমণ ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই সংশোধনের আওতায় উড়োজাহাজ অবতরণ, বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহার, রুট নেভিগেশনসহ নির্ধারিত সময়ের বাইরের পরিচালনার ফি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীপ্রতি বিমানবন্দর ব্যবহারের ফি পুনর্নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বেবিচকের সদস্য (অর্থ) ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়নি।
প্রস্তাবিত নতুন কাঠামো অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ফ্লাইটের অবতরণ ফি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে ১০ টন ওজনের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের প্রতি হাজার কেজিতে চার্জ ৫ দশমিক ২৫ ডলার থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫৬ ডলার হতে পারে। এছাড়া বোর্ডিং ব্রিজ ব্যবহারের ফি ২৫ শতাংশ এবং রুট নেভিগেশন চার্জ ১০ শতাংশ বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বাইরে বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ২৭ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ৩৩ শতাংশ চার্জ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে এমবার্কেশন ফি-তে। তৃতীয় টার্মিনাল বাদে ঢাকার অন্যান্য টার্মিনাল থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে যাত্রীপ্রতি ফি ৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬ ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এই ফি ২৫ টাকার পরিবর্তে ১০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, তৃতীয় টার্মিনালের জন্য যাত্রীপ্রতি ১২ দশমিক ৫০ ডলার ফি প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেবিচকের দাবি, অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক নেভিগেশন ও নজরদারি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ এবং তৃতীয় টার্মিনালের ঋণ পরিশোধের জন্য বাড়তি রাজস্ব জরুরি। সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তাদের পরিচালন ব্যয় ছিল ১ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। তবে এয়ারলাইনসগুলো এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চার্জ বাড়লে টিকিটের দাম বাড়বে এবং নতুন রুট ও বহর সম্প্রসারণের পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা ও টিকিটের বাজারের অনিয়মের মধ্যে নতুন এই চার্জ কার্যকর হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।






















