বেহালা বিমানবন্দর সচল করার উদ্যোগ: শুরু হয়েছে জমি ও অবকাঠামোর বিস্তারিত জরিপ
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 15
পশ্চিমবঙ্গের বেহালা বিমানবন্দরকে পুনরায় কর্মক্ষম ও সচল করার লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে তোড়জোড় শুরু করেছে রাজ্য সরকার। মূলত আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমান চলাচল, চার্টার্ড ফ্লাইট এবং এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে কেন্দ্র করে এর পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। এক সময়ের পাইলট প্রশিক্ষণের এই কেন্দ্রটি দীর্ঘ দিন ধরে প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে থাকলেও বর্তমানে এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার জন্য আকাশপথ ও স্থলভাগে ব্যাপক জরিপ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ড্রোন জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গোপালপুর, বেহালা ও পোরুই মৌজা মিলিয়ে এই বিমানবন্দরের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২১৫ দশমিক ৬ একর। বর্তমানে এখানে প্রায় ৯১৫ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে রয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের লক্ষ্য হলো, এই অবকাঠামোকে ব্যবহার করে অন্তত এটিআর-৭২ ধরনের আঞ্চলিক বিমান চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা। ক্রীড়া ও যুববিষয়ক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খান সম্প্রতি বিমানবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং এ সময় এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিদল সরেজমিন স্থল জরিপে অংশ নেয়। এর মাধ্যমে বিমানবন্দরের সীমানা নির্ধারণসহ সম্ভাব্য বাধাগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
বিমানবন্দরটি পুনরায় চালু হলে কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর হবে। বিশেষ করে গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনের মতো পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চারের সম্ভাবনা দেখছে রাজ্য সরকার। এছাড়া কলকাতার প্রধান বিমানবন্দরের ওপর যাত্রীর চাপ কমাতেও এটি সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে।
তবে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিমানবন্দরের আশপাশে গড়ে ওঠা বহুতল ভবনগুলো বিমান চলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া বিমানবন্দরের প্রবেশপথের অপ্রশস্ততা, কিছু এলাকায় অবৈধ দখলদারিত্ব এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মতো কাজগুলো সম্পন্ন করা জরুরি। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার জন্য রানওয়ের উন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কঠোর মানদণ্ড ও অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি এখন সরকারের মূল চ্যালেঞ্জের জায়গা। সব নিয়ম মেনে বিমান চলাচল নিশ্চিত করা গেলে এটি দক্ষিণ কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার চিকিৎসাসেবা ও যাতায়াত ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

























