ঢাকা ১১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলার মামলা: জামিন পাননি সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান একদিনের রিমান্ডে দেশের প্রতিটি জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় হামলার শিকার এনসিপি সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় কোনো গাফিলতি বরদাশত নয়: সুলতান সালাউদ্দিন টুকু শেরপুরে ১৭১ মণ্ডপে দুর্গাপূজা: নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে সুইডেনের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তৃণমূল ছেড়ে বিজেপির প্রার্থী হলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এসআরবির অভিযানে চাঁদাবাজ পিচ্চি আল-আমিনসহ গ্রেপ্তার ৫ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বড় রদবদল

ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না: এম জে আকবর

  • আপডেট সময় : ০৩:৫২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় তৈরি হলেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন কখনোই মুছে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকাটা স্বাভাবিক। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এম জে আকবর বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় রাষ্ট্রই তাদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচয়ের মূল ভিত্তি হলো ভাষা। এই বাংলা ভাষার শক্তি ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য পরিচয় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন অমীমাংসিত প্রশ্ন ও সমস্যা থাকা স্বাভাবিক। তবে সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র কী করা সম্ভব তা নিয়ে ভাবলেই হবে না; কেন কোনো সমাধান অসম্ভব, সেই প্রশ্নটিও উত্থাপন করতে হবে। এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিই নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে এম জে আকবর বলেন, কোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা না হলে পৃথিবী আরও বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হবে। বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো যুদ্ধকে অবৈধ আখ্যা দেওয়ার আগে তার উৎস ও পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তার মতে, বিংশ শতাব্দী ছিল তিনটি বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী, যেখানে ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। যদিও ইউরোপে এই যুদ্ধ ঠান্ডা থাকলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব ছিল বেশ উত্তপ্ত ও ধ্বংসাত্মক। সেই সময়কার সংঘাতগুলো মূলত বিশ্ব নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনকার সংঘাতগুলো একক কোনো বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়; বরং বিশ্বজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে চলছে, যা মাঝে মাঝে থেমে গেলেও পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারত-বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন মুছে যাবে না: এম জে আকবর

আপডেট সময় : ০৩:৫২:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে সাময়িক মেঘ বা ঝড় তৈরি হলেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধন কখনোই মুছে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে উত্থান-পতন থাকাটা স্বাভাবিক। রোববার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এম জে আকবর বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় রাষ্ট্রই তাদের নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপরিচয়ের মূল ভিত্তি হলো ভাষা। এই বাংলা ভাষার শক্তি ও সাংস্কৃতিক স্বকীয়তা বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য পরিচয় দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন অমীমাংসিত প্রশ্ন ও সমস্যা থাকা স্বাভাবিক। তবে সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র কী করা সম্ভব তা নিয়ে ভাবলেই হবে না; কেন কোনো সমাধান অসম্ভব, সেই প্রশ্নটিও উত্থাপন করতে হবে। এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিই নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করে এম জে আকবর বলেন, কোনো দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা না হলে পৃথিবী আরও বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হবে। বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো যুদ্ধকে অবৈধ আখ্যা দেওয়ার আগে তার উৎস ও পেছনের কারণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তার মতে, বিংশ শতাব্দী ছিল তিনটি বিশ্বযুদ্ধের সাক্ষী, যেখানে ঠান্ডা যুদ্ধকেও এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। যদিও ইউরোপে এই যুদ্ধ ঠান্ডা থাকলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় এর প্রভাব ছিল বেশ উত্তপ্ত ও ধ্বংসাত্মক। সেই সময়কার সংঘাতগুলো মূলত বিশ্ব নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল। একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধের ধরন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনকার সংঘাতগুলো একক কোনো বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়; বরং বিশ্বজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে চলছে, যা মাঝে মাঝে থেমে গেলেও পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।