মধ্যপ্রাচ্য সংকটের অজুহাতে পার পাওয়া যাবে না, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকারকে হুঁশিয়ারি জামায়াত আমীরের
- আপডেট সময় : ০১:১৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 15
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চরম সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে ছয় মাস পার করলেও সরকার কোনো কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। শনিবার বগুড়া সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে দেশি-বিদেশি কারিগরি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিনামূল্যে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সরকার তা গ্রহণ করেনি। উল্টো দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বিদ্যুতের লাইন লম্বা হওয়া নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন।
শিল্প খাতের নাজুক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ এবং সরকারি দলের ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যরাও সংসদে স্বীকার করেছেন যে শিল্প খাত এখন অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এবং অর্ডার অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে কারখানা বন্ধ, ব্যাপক শ্রমিক ছাঁটাই এবং ব্যাংক ঋণখেলাপির হার বেড়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনকালকে ‘ভয়াবহ ট্রমা’ হিসেবে অভিহিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশের বিপ্লবের পর অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের ৮২.২ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীসহ সংস্কারকামী দলগুলো এই গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জনগণের সাথে করা ওয়াদা ভঙ্গ করছে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখাচ্ছে। তিনি ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট টেনে বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের রায় অমান্য করার কারণেই দেশে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। জনগণের রায় অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কারো নেই।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ মোট ৬টি মৌলিক দাবিতে জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। দলটির অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে দেশে বিরাজমান বৈষম্য দূরীকরণ, বেপরোয়া দলীয়করণ বন্ধ করা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালে আনা এবং কৃষকের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করা।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগরীর আমীর আবিদুর রহমান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক নূর মোহাম্মাদ, মহানগরীর আইন সম্পাদক শাহীন মিয়া, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক ইকবাল হোসেন, নুরুল ইসলাম আকন্দ এবং আইবিডাব্লুএফ-এর মহানগরী সভাপতি মাহফুজুল হক মোল্লা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জ্বালানি পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বহু রাজনৈতিক নেতা গুম হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন এবং শত শত পরিবার এখনও স্বজন হারানোর কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের শাসনযন্ত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে চব্বিশের বিপ্লবের পর একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।



















