ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল: জিএম বরখাস্ত, দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর

  • আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 11
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার অবিশ্বাস্য বিল ইস্যু করার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জরুরি নির্দেশে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অর্থাৎ এক মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যুৎমন্ত্রী নিজে ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে ভুল বিলটি সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য গ্রাহককে পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সমাধান করা হবে। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা ওই বিলে বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০ দেখিয়ে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এই ব্যবহারের বিপরীতে প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৬ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা এবং ভ্যাট হিসেবে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা যোগ করায় মোট বিল দাঁড়িয়েছিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। বিলে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০।

বিলে বিল পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। ওই সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে জরিমানাসহ মোট অর্থের পরিমাণ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকায় দাঁড়াত। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে যে, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে গিয়েছিল। এর ফলেই অস্বাভাবিক অংকের ওই বিল তৈরি হয় বলে আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম নিশ্চিত করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মাগুরায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল: জিএম বরখাস্ত, দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৪:৩১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার অবিশ্বাস্য বিল ইস্যু করার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জরুরি নির্দেশে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অর্থাৎ এক মাসে তার বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিদ্যুৎমন্ত্রী নিজে ভুক্তভোগী গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন এবং এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে ভুল বিলটি সংশোধন করে গ্রাহকের কাছে সঠিক বিল পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা সরাসরি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য গ্রাহককে পরামর্শ দিয়েছেন মন্ত্রী। জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত সমাধান করা হবে। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।

ভুক্তভোগী ওই গ্রাহক মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা ওই বিলে বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং পূর্ববর্তী রিডিং ১৬০ দেখিয়ে ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী, এই ব্যবহারের বিপরীতে প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা, যা বিলম্ব মাশুলসহ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫৬ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা এবং ভ্যাট হিসেবে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা যোগ করায় মোট বিল দাঁড়িয়েছিল ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা। বিলে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০।

বিলে বিল পরিশোধের শেষ সময় নির্ধারণ করা ছিল ২৯ সেপ্টেম্বর। ওই সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে জরিমানাসহ মোট অর্থের পরিমাণ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকায় দাঁড়াত। বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে যে, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে গিয়েছিল। এর ফলেই অস্বাভাবিক অংকের ওই বিল তৈরি হয় বলে আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম নিশ্চিত করেছেন।