ঢাকা ০৭:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মেট্রো রেলের দুই লাইন নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকা স্বৈরাচার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি টঙ্গীর তুরাগ নদে নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্য করলে ব্যবস্থা ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৪ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রোহিঙ্গাদের গ্রাম দখল ও নিরাপত্তা ঘটনায় আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আহ্বান প্রেসিডেন্টের সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত

মিরসরাইয়ে গৃহায়ণের আবাসন প্রকল্প

  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) দুটি পৃথক আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। সোনাপাহাড় ও কিছমত জাফরাবাদের এই প্রকল্প দুটি দীর্ঘ এক দশক পেরিয়ে গেলেও সুফল পাননি বিনিয়োগকারীরা। নানা ধরনের অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, আইনি জটিলতা এবং নিরাপত্তাহীনতায় প্রকল্পগুলোর মূল উদ্দেশ্যই এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রায় একই সময়ে দুটি আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)। এর মধ্যে একটি সোনাপাহাড়ে এবং অন্যটি কিছমত জাফরাবাদে। তবে দীর্ঘ এক দশকেও সফলতার মুখ দেখেনি কোনোটিই।

উপজেলার ১৬ দশমিক ২৮ একর জমির ওপর কিছমত জাফরাবাদ আবাসন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪২ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। এখানে ১৬৩টি আবাসিক ও ৪টি বাণিজ্যিক প্লট গ্রাহকদের বরাদ্দের বিপরীতে টাকা আদায় করা হলেও দীর্ঘ ১০ বছরেও উন্নয়ন কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এখন পর্যন্ত প্লট বুঝে পাননি।

প্রকল্পটির মাটি ভরাট কাজে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে তদন্তে। যেখানে ৮৭ হাজার ৯৩ ঘনমিটার মাটি ভরাট হয়েছে বলে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, সেখানে দুদকের নিরপেক্ষ প্রকৌশলীদের পরিমাপে পাওয়া গেছে মাত্র ৪৩ হাজার ১২৯ ঘনমিটার। এই ঘটনায় অসত্য তথ্য দিয়ে ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (চট্টগ্রাম-২) একটি মামলা দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটি জেলা স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজে ভয়াবহ অনিয়ম করা হয়েছে।

মামলায় তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান ও ঠিকাদার মাঈনুল কবিরকে আসামি করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, জাগৃক বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ না করায় তদন্ত কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরপক্ষে অভিযুক্ত প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ ও আশ্রাফুজ্জামান দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।

জাগৃক চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে ১৮ কোটি টাকার নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারদের শর্ত পূরণ না হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, সোনাপাহাড়ের ১৬ দশমিক ৪৮ একরের প্রকল্পের চিত্রও হতাশাজনক। ২০১৭ সালেই ১৮৩ জন গ্রাহকের কাছে প্লটের দলিল হস্তান্তর করা হলেও গত নয় বছরেও সেখানে বসতি গড়ে ওঠেনি। তদারকির অভাবে প্রকল্প এলাকা এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

সোনাপাহাড় হাউজিং এস্টেট প্লট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার জানান, চারদিকে সীমানা প্রাচীর থাকলেও নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। এখান থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে গেছে, বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থায়ী আনসার ক্যাম্প বা সমন্বিত নজরদারি ছাড়া এখানে বসবাস করা সম্ভব নয়। কিছমত জাফরাবাদের ভুক্তভোগী নাছির উদ্দিন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, জমানো টাকা দিয়ে প্লট কিনে আজ আমরা স্বপ্নভঙ্গের শিকার। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন প্রকল্প দুটির করুণ দশার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঘন ঝোপজঙ্গলে সাপের উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পের শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটির তার চোরেরা খুলে নিয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

মিরসরাইয়ে গৃহায়ণের আবাসন প্রকল্প

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন সমস্যা সমাধানে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক) দুটি পৃথক আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। সোনাপাহাড় ও কিছমত জাফরাবাদের এই প্রকল্প দুটি দীর্ঘ এক দশক পেরিয়ে গেলেও সুফল পাননি বিনিয়োগকারীরা। নানা ধরনের অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ, আইনি জটিলতা এবং নিরাপত্তাহীনতায় প্রকল্পগুলোর মূল উদ্দেশ্যই এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে প্রায় একই সময়ে দুটি আবাসন প্রকল্প হাতে নিয়েছিল জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (জাগৃক)। এর মধ্যে একটি সোনাপাহাড়ে এবং অন্যটি কিছমত জাফরাবাদে। তবে দীর্ঘ এক দশকেও সফলতার মুখ দেখেনি কোনোটিই।

উপজেলার ১৬ দশমিক ২৮ একর জমির ওপর কিছমত জাফরাবাদ আবাসন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪২ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। এখানে ১৬৩টি আবাসিক ও ৪টি বাণিজ্যিক প্লট গ্রাহকদের বরাদ্দের বিপরীতে টাকা আদায় করা হলেও দীর্ঘ ১০ বছরেও উন্নয়ন কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা এখন পর্যন্ত প্লট বুঝে পাননি।

প্রকল্পটির মাটি ভরাট কাজে ব্যাপক দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে এসেছে তদন্তে। যেখানে ৮৭ হাজার ৯৩ ঘনমিটার মাটি ভরাট হয়েছে বলে বিল উত্তোলন করা হয়েছে, সেখানে দুদকের নিরপেক্ষ প্রকৌশলীদের পরিমাপে পাওয়া গেছে মাত্র ৪৩ হাজার ১২৯ ঘনমিটার। এই ঘটনায় অসত্য তথ্য দিয়ে ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (চট্টগ্রাম-২) একটি মামলা দায়ের করে। বর্তমানে মামলাটি জেলা স্পেশাল জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজে ভয়াবহ অনিয়ম করা হয়েছে।

মামলায় তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. অলিউল ইসলাম, উপসহকারী প্রকৌশলী আশ্রাফুজ্জামান ও ঠিকাদার মাঈনুল কবিরকে আসামি করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তবে অভিযোগ রয়েছে, জাগৃক বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ না করায় তদন্ত কাজে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। অপরপক্ষে অভিযুক্ত প্রকৌশলী কাওসার মোর্শেদ ও আশ্রাফুজ্জামান দাবি করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।

জাগৃক চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্পটি পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে ১৮ কোটি টাকার নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তবে ঠিকাদারদের শর্ত পূরণ না হওয়ায় পুনরায় দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, সোনাপাহাড়ের ১৬ দশমিক ৪৮ একরের প্রকল্পের চিত্রও হতাশাজনক। ২০১৭ সালেই ১৮৩ জন গ্রাহকের কাছে প্লটের দলিল হস্তান্তর করা হলেও গত নয় বছরেও সেখানে বসতি গড়ে ওঠেনি। তদারকির অভাবে প্রকল্প এলাকা এখন মাদকসেবী ও অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

সোনাপাহাড় হাউজিং এস্টেট প্লট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার জানান, চারদিকে সীমানা প্রাচীর থাকলেও নিরাপত্তা বলতে কিছু নেই। এখান থেকে বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়ে গেছে, বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। স্থায়ী আনসার ক্যাম্প বা সমন্বিত নজরদারি ছাড়া এখানে বসবাস করা সম্ভব নয়। কিছমত জাফরাবাদের ভুক্তভোগী নাছির উদ্দিন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, জমানো টাকা দিয়ে প্লট কিনে আজ আমরা স্বপ্নভঙ্গের শিকার। স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল আমিন প্রকল্প দুটির করুণ দশার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ঘন ঝোপজঙ্গলে সাপের উপদ্রব বাড়ার পাশাপাশি প্রকল্পের শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটির তার চোরেরা খুলে নিয়ে গেছে।