মেট্রো রেলের দুই লাইন নির্মাণে ৪৬ হাজার কোটি টাকা
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / 1
ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি নতুন মেট্রো রেল লাইনের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রকল্প দুটির আটটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে লাইন-১ এবং লাইন-৫-এর জন্য ভূগর্ভস্থ পথ, উড়ালপথ, স্টেশন, ডিপো, ট্র্যাক, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।
বৈঠকে লাইন-১-এর সিপি-০২, সিপি-০৬, সিপি-০৯ ও সিপি-১০ এবং লাইন-৫-এর সিপি-০৩ প্যাকেজের পূর্তকাজ অনুমোদন পায়। এছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০৪ ও সিপি-০৭ এবং লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। প্রকল্প বিশ্লেষণে দেখা যায়, লাইন-১-এর চারটি প্যাকেজে মোট ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হবে। এর মধ্যে সিপি-০২ প্যাকেজের আওতায় ডিপোর বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ২৮৫ কোটি ৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৫৮ টাকা। সব কটি প্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হওয়ার পর সিনোহাইড্রো ও এসইবিসিএলের যৌথ উদ্যোগকে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশ করা হয়। ভারতের লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) ও সুমিতোমোর যৌথ উদ্যোগকে কাজটির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্পের লাইন-১-এর সিপি-০৬ প্যাকেজে নাড্ডা স্টেশনের উত্তর প্রান্ত থেকে বিমানবন্দর স্টেশন পর্যন্ত ৫ দশমিক ১৮২ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ পথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই রুটের স্টেশনগুলো হলো বিমানবন্দর, বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩ এবং খেলক্ষেত। এই নির্দিষ্ট অংশের জন্য ১১ হাজার ৫৯০ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার ২৯৯ টাকা ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে, যেখানে দর দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে ভ্যাট ও কর ছাড়া ৩২ দশমিক ০৫ শতাংশ বেশি। এদিকে সিপি-০৯ প্যাকেজে ট্র্যাক নির্মাণ, রেল, টার্নআউট, পয়েন্ট ও ক্রসিংসহ বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থা স্থাপনের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্কশপ, স্ট্যাবলিং শেড, অপারেশন ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, কারিগরি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র, সহায়ক উপকেন্দ্র ও ট্র্যাকশন উপকেন্দ্র। এ ছাড়া টিবিএম চালুর জন্য শ্যাফট নির্মাণ করা হবে। এতে ১৩২ কেভি প্রাথমিক ফিডার, রিসিভিং ও সহায়ক উপকেন্দ্র, ৩৩/০.৪১৫ কেভি বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং ১ হাজার ৫০০ ভোল্টের ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগব্যবস্থা থাকবে। এ প্যাকেজে ব্যয় হবে ১১ হাজার ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ ৭২ হাজার ১৫০ টাকা।
অন্যান্য প্যাকেজের মধ্যে লাইন-৫ উত্তর রুটের সিপি-০২ প্যাকেজে ডিপোর পূর্ত ও ভবনের কাজ সম্পন্ন হবে, যার চুক্তিমূল্য ১ হাজার ৮৪৭ কোটি ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৬৫৮ টাকা। এছাড়া লাইন-১-এর সিপি-০৭ প্যাকেজে ট্রানজিশন থেকে বালু নদীর শুরু পর্যন্ত ৫ দশমিক ০০৭ কিলোমিটার প্রধান লাইন এবং স্টেশন নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৫৩৪ কোটি ৯ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় লাইন-১ ও লাইন-৫ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব অনুমোদন পায়। এই দুই প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ ২০১৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকা এই মেট্রো রেল সংযোগগুলো চালু হলে ঢাকা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রাক্-যোগ্যতা উত্তীর্ণ তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হলে তিনটিই দরপ্রস্তাব জমা দেয়।

















