ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইউরোপে ভুয়া বোমা হামলার হুমকিতে ব্যাহত ৩০ ফ্লাইট জামালগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২ রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার যেকোনো মূল্যে রক্ষা করব: প্রধানমন্ত্রী রান্নার অ্যালুমিনিয়াম পাত্রে সিসার ঝুঁকি: মিলছে না সমাধান সেবায় রূপান্তরই মূল লক্ষ্য, জানালেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাই দুবাইয়ের দুই রুটে ফ্লাইট স্থগিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে বায়োফার্মার এমডির সৌজন্য সাক্ষাৎ ওয়েলিংটনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের জয় ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ

  • আপডেট সময় : ১০:০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
  • / 6
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর চাঁনখারপুলের ‘রয়েল কেয়ার হাসপাতাল’ নামের একটি ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত তাপে পাঁচ ঘণ্টা বয়সী এক নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার শিশুটিকে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে। শিশুটির শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বয়স সবে ৫ ঘণ্টা। মাথা, পিঠ ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা ঝলসে যাওয়া ওই শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এনআইসিইউ সংকটে সেখানে থেকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে যাওয়ার পর বার্ণ ইনস্টিটিটে। সেখান থেকে ঢামেক হয়ে ফের দুর্ঘটনা ঘটা সেই বেসকারি মেডিকেলেই স্থান হয় নবজাতকটির। কিন্তু ওদের অবহেলায় আমার ৫ ঘণ্টার বাচ্চার শরীরটা পুইড়া গেল।

শিশুর বাবা মো. রাব্বানী জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তার সন্তান জন্ম নেয়। জন্মের পরপরই নবজাতকের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢামেকের এনআইসিইউতে কোনো শয্যা খালি না থাকায় হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়ের পরামর্শে রাব্বানী তার সন্তানকে নিয়ে চাঁনখারপুলের রয়েল কেয়ার হাসপাতালে যান। বাবা মো. রাব্বানী ও তার ভাতিজা রেজাউল যখন কাগজপত্র ঠিক করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ সবার চিৎকার শুনতে পান। মো. রাব্বানী বলেন, সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।

ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, হাসপাতালের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই নবজাতকটিকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মেশিনের ভেতর থেকে আগুন জ্বলতে দেখেন। এ সময় দায়িত্বরত হাসপাতালের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে শিশুটিকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় ঢামেকে পাঠানো হয়। ঢামেকের চিকিৎসকরা শিশুটিকে আবার ওই ক্লিনিকেই ফেরত পাঠান, যা নিয়ে পরবর্তীকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিশুটির স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানান রাব্বানীর পরিবারের সদস্যরা।

রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, শিশুটিকে ভর্তি করার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল এবং এটি সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছে। হাসপাতালে কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করে তিনি আরও জানান, রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে তাদের লোকজনের হাতাহাতি মূলত উত্তপ্ত পরিস্থিতি থেকে তৈরি হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাজকিয়া হক জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকরা বারবার স্বজনদের শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে জানালেও তারা ভেঙে পড়েছেন এবং চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে, ঘটনার বিষয়টি অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজধানীর ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের আগুনে নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:০৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

রাজধানীর চাঁনখারপুলের ‘রয়েল কেয়ার হাসপাতাল’ নামের একটি ক্লিনিকে ইনকিউবেটরের অতিরিক্ত তাপে পাঁচ ঘণ্টা বয়সী এক নবজাতকের শরীর ঝলসে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার শিশুটিকে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে রাখা হয়েছে। শিশুটির শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বয়স সবে ৫ ঘণ্টা। মাথা, পিঠ ও পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা ঝলসে যাওয়া ওই শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১১ নম্বর ওয়ার্ডের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এনআইসিইউ সংকটে সেখানে থেকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে। অগ্নিকাণ্ডে ঝলসে যাওয়ার পর বার্ণ ইনস্টিটিটে। সেখান থেকে ঢামেক হয়ে ফের দুর্ঘটনা ঘটা সেই বেসকারি মেডিকেলেই স্থান হয় নবজাতকটির। কিন্তু ওদের অবহেলায় আমার ৫ ঘণ্টার বাচ্চার শরীরটা পুইড়া গেল।

শিশুর বাবা মো. রাব্বানী জানান, শনিবার ভোর ৪টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তার সন্তান জন্ম নেয়। জন্মের পরপরই নবজাতকের শ্বাসকষ্ট শুরু হলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পরামর্শ দেন। তবে ঢামেকের এনআইসিইউতে কোনো শয্যা খালি না থাকায় হাসপাতালের এক ওয়ার্ড বয়ের পরামর্শে রাব্বানী তার সন্তানকে নিয়ে চাঁনখারপুলের রয়েল কেয়ার হাসপাতালে যান। বাবা মো. রাব্বানী ও তার ভাতিজা রেজাউল যখন কাগজপত্র ঠিক করার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই হঠাৎ সবার চিৎকার শুনতে পান। মো. রাব্বানী বলেন, সরকারি হাসপাতালে সিট না পেয়ে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।

ভুক্তভোগী পরিবারটির অভিযোগ, হাসপাতালের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই নবজাতকটিকে ইনকিউবেটরে রাখা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা মেশিনের ভেতর থেকে আগুন জ্বলতে দেখেন। এ সময় দায়িত্বরত হাসপাতালের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে শিশুটিকে দ্রুত জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেয়া হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় ঢামেকে পাঠানো হয়। ঢামেকের চিকিৎসকরা শিশুটিকে আবার ওই ক্লিনিকেই ফেরত পাঠান, যা নিয়ে পরবর্তীকালে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিশুটির স্বজনদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে জানান রাব্বানীর পরিবারের সদস্যরা।

রয়েল কেয়ার হাসপাতালের ইনচার্জ মো. আব্দুর রাজ্জাক অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, শিশুটিকে ভর্তি করার আগেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল এবং এটি সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছে। হাসপাতালে কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করে তিনি আরও জানান, রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে তাদের লোকজনের হাতাহাতি মূলত উত্তপ্ত পরিস্থিতি থেকে তৈরি হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তাজকিয়া হক জানিয়েছেন, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার শরীরের প্রায় ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকরা বারবার স্বজনদের শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে জানালেও তারা ভেঙে পড়েছেন এবং চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এদিকে, ঘটনার বিষয়টি অবগত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ও পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।