ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

লন্ডনে দেড় কোটি পাউন্ডের ফ্ল্যাটে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

  • আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 3
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে রিজেন্টস পার্কের নিকটবর্তী প্রায় দেড় কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দেশটির হাইকোর্ট। এই ফ্ল্যাটটির মালিকানায় বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। সংস্থাটির দাবি, অর্থ পাচারের মাধ্যমে এই সম্পত্তি কেনা হয়ে থাকতে পারে এবং বর্তমানে এর অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে তদন্ত চলছে।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি আনিসুজ্জামান চৌধুরী। এনসিএ-এর তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি জটিল মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এনসিএ-এর একজন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া লিখিত সাক্ষ্যে জানান, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ গোপন রাখাই ছিল এই কাঠামোর মূল লক্ষ্য।

বিচারপতি কারেন স্টেইন তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, ফ্ল্যাটটি অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে কেনার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি রয়েছে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সম্পত্তিটি হস্তান্তর বা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তবে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে দখল ফিরে পেতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। যদিও আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেননি, তবুও তিনি সব ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড ও সম্পদের মালিকানা গোপন করার অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো দেওয়ানি মামলা হলে তিনি জোরালো আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে রিজেন্টস পার্কের এই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড মূল্যে। পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির নাম বদলে ‘পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ’ রাখা হয়। লন্ডনে অর্থের উৎস অনুসন্ধানে এনসিএ-এর যে বিস্তৃত তদন্ত চলছে, এটি তারই একটি বড় অংশ।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের আদালত। ওই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব সম্পদের অর্থের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

লন্ডনে দেড় কোটি পাউন্ডের ফ্ল্যাটে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

আপডেট সময় : ১২:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে রিজেন্টস পার্কের নিকটবর্তী প্রায় দেড় কোটি পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি বা হস্তান্তরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন দেশটির হাইকোর্ট। এই ফ্ল্যাটটির মালিকানায় বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। সংস্থাটির দাবি, অর্থ পাচারের মাধ্যমে এই সম্পত্তি কেনা হয়ে থাকতে পারে এবং বর্তমানে এর অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে তদন্ত চলছে।

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ফ্ল্যাটটি কেনার অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি আনিসুজ্জামান চৌধুরী। এনসিএ-এর তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা আড়াল করার উদ্দেশ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি জটিল মালিকানা কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এনসিএ-এর একজন তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে দেওয়া লিখিত সাক্ষ্যে জানান, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর নিয়ন্ত্রণ গোপন রাখাই ছিল এই কাঠামোর মূল লক্ষ্য।

বিচারপতি কারেন স্টেইন তাঁর রায়ে উল্লেখ করেন, ফ্ল্যাটটি অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে কেনার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি রয়েছে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সম্পত্তিটি হস্তান্তর বা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তবে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে দখল ফিরে পেতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। যদিও আনিসুজ্জামান চৌধুরীর আইনজীবীরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেননি, তবুও তিনি সব ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ড ও সম্পদের মালিকানা গোপন করার অভিযোগ স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো দেওয়ানি মামলা হলে তিনি জোরালো আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।

যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধন দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির মাধ্যমে রিজেন্টস পার্কের এই ফ্ল্যাটটি কেনা হয়েছিল ১ কোটি ২৪ লাখ পাউন্ড মূল্যে। পরবর্তী সময়ে কোম্পানিটির নাম বদলে ‘পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ’ রাখা হয়। লন্ডনে অর্থের উৎস অনুসন্ধানে এনসিএ-এর যে বিস্তৃত তদন্ত চলছে, এটি তারই একটি বড় অংশ।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৫ সালের জুন মাসে বাংলাদেশের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ১৮ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের আদালত। ওই সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এসব সম্পদের অর্থের বৈধ উৎস ব্যাখ্যা করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।