লাতিন আমেরিকার বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর নতুন পরিকল্পনা বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ০৯:১৪:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 6
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো প্রচলিত বাজারে রপ্তানি চাহিদা স্থবির হয়ে আসায় বিকল্প নতুন বাজারের সন্ধানে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আমেরিকার এই অঞ্চলের বাজারগুলোতে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, পাট ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বাণিজ্যিক ভিত্তি আরও শক্ত করতে চায় ঢাকা। লাতিন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ল্যাবসিআই) সভাপতি মো. আনোয়ার শওকত আফসার জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে বাংলাদেশের পণ্যের বিশাল সম্ভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত রপ্তানি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায়নি। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)-র সঙ্গে ল্যাবসিআই একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে।
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্য সংকট দেখা দিলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে গম, চিনি ও সয়াবিন আমদানি বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ। তবে এখন আমদানির পাশাপাশি এসব দেশে রপ্তানি বাড়িয়ে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর চেষ্টা চলছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্রাজিলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা অর্থের অংকে ১৮৭ থেকে ২১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ। অন্যদিকে, একই অর্থবছরে আর্জেন্টিনায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ডলার, বিপরীতে দেশটির থেকে প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। তবে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের মতো দেশগুলোতে আগামী দিনে বাংলাদেশি পণ্যের বড় বাজার তৈরির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্যিক তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিভিন্ন সূত্রে এ আয়ের পরিমাণ ১৮৭ থেকে ২১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় এতে ২৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তে উঠে এসেছে। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা রয়েছে।
এই বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আর্জেন্টিনার সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) অথবা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের ওপর জোর দিচ্ছেন বিজিএমইএ ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের নেতারা। লাতিন আমেরিকার আঞ্চলিক জোট ‘মারকোসুর’-এর বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে উরুগুয়েকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন রপ্তানিকারকরা। সম্প্রতি উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানি বিজিএমইএ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক আমদানিতে আগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি উচ্চমানের উল বা ভেড়ার পশম রপ্তানির প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে উচ্চমানের ভেড়ার পশম বা উল রপ্তানির প্রস্তাবও দেন তিনি।
শুধু প্রধান দেশগুলোই নয়, ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল এবং প্যারাগুয়ের কাঠ ও মসলার বাজারেও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক প্রসারের সুযোগ দেখছেন উদ্যোক্তারা। এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের পর রপ্তানি খাতের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই ভৌগোলিক বৈচিত্র্য আনতে চায় বাংলাদেশ। কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ বুয়েনস আইরেসে নতুন দূতাবাস স্থাপন এবং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় ব্যবসায়িক উপস্থিতি আরও সুসংহত করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।






















