ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

লিবিয়ায় জিম্মি যুবক, থানায় গিয়েও মিলছে না সহায়তা

  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 0
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর খিলক্ষেতের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এনামুল হাসান বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বর্তমানে লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। সচ্ছল জীবনের আশায় বছরখানেক আগে দালালদের পাল্লায় পড়ে সাড়ে ১১ লাখ টাকা খুইয়েছিলেন তিনি। সেই প্রতারণার ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে নিকুঞ্জ এলাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে স্পেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সেই বিদেশ যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরখানেক আগে দালালের কথায় বিশ্বাস রেখে সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হন।

৭ অক্টোবর রাতে খিলক্ষেতের বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে এনামুল চক্রের কবলে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, স্পেনে পাঠানোর কথা বলে কৌশলে তাকে প্রথমে দুবাই এবং পরে মরক্কো হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করা হয়। বর্তমানে চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে। সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তার আগ্রহ কাজে লাগিয়ে স্পেনে কর্মসংস্থানের নামে ফাঁদ পাতে। কৌশলে কয়েক দেশ ঘুরিয়ে নিয়ে যায় ‘লিবিয়ায়’। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশে ৭ অক্টোবর রাতে খিলক্ষেতের বাসা থেকে বের হন এনামুল হাসান।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী হেপি আক্তার জানিয়েছেন, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর অভিযুক্তরা ফোন করে ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা এনামুলকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় আরও একবার ফোন করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বর্তমানে চক্রটি আপাতত ২ লাখ টাকা পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছে এবং দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ও এমএফএস নম্বর ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সোমবার খিলক্ষেত থানায় জাহাঙ্গীর, রিয়াজ, হারুন ও সায়মন নামের চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে পুলিশ কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এনামুল চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন, যা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে পরিবার দাবি করছে।

ভুক্তভোগীর চাচা জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, খিলক্ষেত থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান উলটো তাদেরই জিডি প্রত্যাহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। জাহাঙ্গীর বলেন, এসআই সাইদুর আমাদের থানায় ডেকে নিয়ে অপরাধীদের সঙ্গে সমঝোতা করে টাকা দিয়ে ভাতিজাকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলছেন। অথচ অপহরণকারীরা বাংলাদেশের নম্বর থেকেই কল করছে, কিন্তু পুলিশ সেই নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে অনাগ্রহী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই সাইদুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। এছাড়া থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চক্রটি কেবল মুক্তিপণ দাবিই করছে না, বরং থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে অডিও বার্তার মাধ্যমে এনামুলকে দিয়ে জিডি তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে তারা সেটি প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে। এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দফায় দফায় বার্তা পাঠিয়ে আতঙ্কে রেখেছে চক্রের সদস্যরা।

হেপি আক্তার জানান, তিনি কোনো অবস্থাতেই অভিযোগ প্রত্যাহার করবেন না। স্বামীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, যে কোনো উপায়ে তাকে উদ্ধার করা হোক। পুলিশের এই নির্বাক ভূমিকা ভুক্তভোগী পরিবারকে আরও গভীর উৎকণ্ঠায় ফেলেছে। আবার টাকা দিলেই যে মানুষটাকে নিরাপদে ফেরত পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

লিবিয়ায় জিম্মি যুবক, থানায় গিয়েও মিলছে না সহায়তা

আপডেট সময় : ১১:৩৪:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর খিলক্ষেতের বাসিন্দা ৩৯ বছর বয়সী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এনামুল হাসান বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বর্তমানে লিবিয়ায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন। সচ্ছল জীবনের আশায় বছরখানেক আগে দালালদের পাল্লায় পড়ে সাড়ে ১১ লাখ টাকা খুইয়েছিলেন তিনি। সেই প্রতারণার ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে নিকুঞ্জ এলাকার একটি এজেন্সির মাধ্যমে স্পেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সেই বিদেশ যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। বছরখানেক আগে দালালের কথায় বিশ্বাস রেখে সাড়ে ১১ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হন।

৭ অক্টোবর রাতে খিলক্ষেতের বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে এনামুল চক্রের কবলে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, স্পেনে পাঠানোর কথা বলে কৌশলে তাকে প্রথমে দুবাই এবং পরে মরক্কো হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করা হয়। বর্তমানে চক্রটি বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে। সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা তার আগ্রহ কাজে লাগিয়ে স্পেনে কর্মসংস্থানের নামে ফাঁদ পাতে। কৌশলে কয়েক দেশ ঘুরিয়ে নিয়ে যায় ‘লিবিয়ায়’। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরের সঙ্গে মৌখিক চুক্তিতে স্পেনে যাওয়ার উদ্দেশে ৭ অক্টোবর রাতে খিলক্ষেতের বাসা থেকে বের হন এনামুল হাসান।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী হেপি আক্তার জানিয়েছেন, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর অভিযুক্তরা ফোন করে ১৯ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা এনামুলকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় আরও একবার ফোন করে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বর্তমানে চক্রটি আপাতত ২ লাখ টাকা পাঠানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছে এবং দেশের একটি বেসরকারি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ও এমএফএস নম্বর ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্ত্রী সোমবার খিলক্ষেত থানায় জাহাঙ্গীর, রিয়াজ, হারুন ও সায়মন নামের চারজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে পুলিশ কেবল একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে গ্রহণ করে। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এনামুল চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়েছেন, যা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে পরিবার দাবি করছে।

ভুক্তভোগীর চাচা জাহাঙ্গীর আলমের অভিযোগ, খিলক্ষেত থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইদুর রহমান উলটো তাদেরই জিডি প্রত্যাহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন। জাহাঙ্গীর বলেন, এসআই সাইদুর আমাদের থানায় ডেকে নিয়ে অপরাধীদের সঙ্গে সমঝোতা করে টাকা দিয়ে ভাতিজাকে ছাড়িয়ে আনার কথা বলছেন। অথচ অপহরণকারীরা বাংলাদেশের নম্বর থেকেই কল করছে, কিন্তু পুলিশ সেই নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে অনাগ্রহী।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই সাইদুর রহমানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রশ্ন শুনেই ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি। এছাড়া থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চক্রটি কেবল মুক্তিপণ দাবিই করছে না, বরং থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীর পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। মঙ্গলবার মধ্যরাতে অডিও বার্তার মাধ্যমে এনামুলকে দিয়ে জিডি তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে তারা সেটি প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছে। এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দফায় দফায় বার্তা পাঠিয়ে আতঙ্কে রেখেছে চক্রের সদস্যরা।

হেপি আক্তার জানান, তিনি কোনো অবস্থাতেই অভিযোগ প্রত্যাহার করবেন না। স্বামীকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, যে কোনো উপায়ে তাকে উদ্ধার করা হোক। পুলিশের এই নির্বাক ভূমিকা ভুক্তভোগী পরিবারকে আরও গভীর উৎকণ্ঠায় ফেলেছে। আবার টাকা দিলেই যে মানুষটাকে নিরাপদে ফেরত পাওয়া যাবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।