শাহজালালে সোনা পাচার: মালয়েশিয়ান নাগরিক ৬ দিনের রিমান্ডে
- আপডেট সময় : ১২:০১:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাড়ে চার কেজি ওজনের স্বর্ণের বারসহ আটক মালয়েশিয়ান নাগরিক ইয়াং ডন সেউকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এই আদেশ দেন। বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহবুব হোসাইন আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বিচারক তার সঙ্গে ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন কি না জানতে চাইলে তিনি সম্মতি দেন। নিজের পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইয়াং ডন সেউ জানান, বর্তমানে তিনি বেকার এবং চাকরি খুঁজছেন। রিমান্ড চাওয়ার বিষয়ে কোনো বক্তব্য আছে কি না জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো উত্তর দেননি। তবে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেওয়ার পর তিনি মৌখিকভাবে আপত্তি প্রকাশ করেন। রিমান্ডের বিষয়টি জানানো হলে তিনি আপত্তি জানিয়ে ‘না, না’ বলেন।
রোববার ভোরে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের এমএইচ-০১৯৬ ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছান ইয়াং ডন সেউ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহপ্রবণ ছিল। গ্রিন চ্যানেল এলাকা অতিক্রম করার সময় তাকে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে যাত্রীর শার্টের নিচে কালো কাপড়ের বেল্টে অভিনব কৌশলে লুকানো অবস্থায় নয়টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোনার মধ্যে এক কেজি ওজনের চারটি এবং ১০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি বার রয়েছে, যার মোট ওজন ৪ দশমিক ৫ কেজি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ২৪ ক্যারেট মানের এই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা, যা অন্যান্য সূত্র মতে প্রায় ৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই সন্দেহভাজন ওই যাত্রীর ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। পরে যাত্রীরা ব্যাগেজ সংগ্রহ করে গ্রিন চ্যানেল-১ অতিক্রম করার সময় তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হয়।
এই ঘটনায় ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও কাস্টমস প্রিভেন্টিভ শাখার কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই স্বর্ণের উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র বা স্থানীয় সিন্ডিকেট জড়িত কি না, তা বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পাচারের কৌশল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

























