শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে ভারতে নিরাপত্তা ঘটনায়: নেপথ্যে আন্তর্জাতিক চক্র
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে ভারতে মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ড থেকে আসা বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকের কাছে উচ্চমূল্যের মাদক ‘কুশ’ পাওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে বিমানবন্দরটি থেকে প্রায় ৩০ কেজি কুশ জব্দ করা হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই ও আগস্ট মাসে থাইল্যান্ড থেকে আসা ভারতীয় নাগরিকদের কাছ থেকে একাধিক চালানে এই মাদক উদ্ধার করা হয়। গত ২৪ জুলাই এক ভারতীয় যাত্রীর কাছ থেকে ১১ কেজি ৮০০ গ্রাম কুশ জব্দ করার মধ্য দিয়ে এই চক্রের বিষয়টি নজর কাড়ে। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৮ আগস্ট চার কেজি ১৮০ গ্রাম এবং ২২ আগস্ট ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে আসা এক ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে তিন কেজি কুশ উদ্ধার করা হয়। ১৮ আগস্টের ঘটনায় দুই ভারতীয় নাগরিক তাদের ট্রলি ও পাসপোর্টের কপি রেখে কৌশলে পালিয়ে গেলেও তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ আগস্ট একই এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে আসা দুই ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়, যাদের ট্রলিতে কাপড়ের নিচে লুকানো ছিল পাঁচ কেজি ৪০ গ্রাম কুশ। এসময় তিন লিটার বিদেশি মদ ও ২৪টি ভারতীয় শাড়িও পাওয়া যায়। এর মাত্র তিন দিন পর, ২৭ আগস্ট আরও দুই ভারতীয় নাগরিককে পাঁচ কেজি ১২০ গ্রাম কুশসহ আটক করা হয়। একই রুট ও একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করায় তদন্তকারীরা নিশ্চিত যে, একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক চক্র এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপপরিচালক রাজিউর রহমান জানান, বাংলাদেশে কুশের ব্যবহার সেভাবে নেই, তবে ভারতের মাদক কারবারিরা মূলত বাংলাদেশকে পাচারের রুট হিসেবে বেছে নিয়েছে। কেন এই পথ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং দেশি কোনো সহযোগী এর সঙ্গে যুক্ত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে দুই দেশের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগসহ আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
























