ঢাকা ০৮:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

শুক্রবার রূপপুরে আসছে ইউরেনিয়াম, চূড়ান্ত প্রস্তুতি বিদ্যুৎ উৎপাদনের

  • আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 11
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সব ধরনের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাড়তি জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার কারণে জ্বালানি আমদানির সূচিতে কয়েক দফা পরিবর্তন আনতে হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমকে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জ্বালানিটি আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা শুক্রবারের নতুন সময়সূচিতে নির্ধারিত হয়েছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত প্রকল্প এলাকায় এই ইউরেনিয়াম নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে শুক্রবার ২ অক্টোবর দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাড়তি জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের।

একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পর সাধারণত এক থেকে দেড় বছর পার হলে কিছু জ্বালানি অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য এই বাড়তি জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের রুট নিয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। যদি নির্ধারিত রুটে কোনো জটিলতা তৈরি হয়, তবে বিকল্প হিসেবে চীনের আকাশসীমা ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

জ্বালানি আসার পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পের কারিগরি প্রস্তুতিও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলমান বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে এই পরীক্ষাটি সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পারমাণবিক চুল্লির প্রাইমারি সার্কিটে কোনো কারণে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হলে এই সংবেদনশীল ভালভগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে সিস্টেমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে মোট নয়টি নিরাপত্তা ভালভ মেরামত করা হয়েছিল।

এখন প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া বাকি। ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে শেষ পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর পথে প্রকল্পটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে। রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাড়তি জ্বালানি আসা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা প্রকল্পের উৎপাদন প্রস্তুতির গতিকে আরও বেগবান করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

শুক্রবার রূপপুরে আসছে ইউরেনিয়াম, চূড়ান্ত প্রস্তুতি বিদ্যুৎ উৎপাদনের

আপডেট সময় : ০৭:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

সব ধরনের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাড়তি জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার কারণে জ্বালানি আমদানির সূচিতে কয়েক দফা পরিবর্তন আনতে হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রোসাটমকে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জ্বালানিটি আসার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা শুক্রবারের নতুন সময়সূচিতে নির্ধারিত হয়েছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত প্রকল্প এলাকায় এই ইউরেনিয়াম নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সব জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে শুক্রবার ২ অক্টোবর দুপুরে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বাড়তি জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের।

একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর পর সাধারণত এক থেকে দেড় বছর পার হলে কিছু জ্বালানি অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য এই বাড়তি জ্বালানি আমদানি করা হচ্ছে। ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি পরিবহনের রুট নিয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে। যদি নির্ধারিত রুটে কোনো জটিলতা তৈরি হয়, তবে বিকল্প হিসেবে চীনের আকাশসীমা ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

জ্বালানি আসার পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পের কারিগরি প্রস্তুতিও এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলমান বিভিন্ন ধাপের পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের প্রথম ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৬ মেগাপ্যাসকেল চাপে এই পরীক্ষাটি সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পারমাণবিক চুল্লির প্রাইমারি সার্কিটে কোনো কারণে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি হলে এই সংবেদনশীল ভালভগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা নিয়ন্ত্রণ করে। এর আগে সিস্টেমের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে মোট নয়টি নিরাপত্তা ভালভ মেরামত করা হয়েছিল।

এখন প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়া বাকি। ১৮ মেগাপ্যাসকেল চাপে শেষ পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর পথে প্রকল্পটি আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে। রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যেই দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বাড়তি জ্বালানি আসা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সফল পরীক্ষা প্রকল্পের উৎপাদন প্রস্তুতির গতিকে আরও বেগবান করেছে।