শেখ হাসিনাকে ফেরাতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০১:৪১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
শেখ হাসিনাসহ পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পলাতকরা স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হলে আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। তবে তারা মাঝেমধ্যে ফিরে আসার আওয়াজ দিয়ে আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার যে চেষ্টা করছে, তা সরকারের নজরে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রকে অফিশিয়ালি রিকোয়েস্ট করেছি—আপনারা সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্যান্য আসামিদেরকে ফেরত দিন।
তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে, তারা গত ১৫ বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম এবং কাস্টোডিয়াল ডেথের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ এক মাসে ১৪০০ নাগরিককে হত্যার ঘটনার পরও কোনো অনুশোচনা বা দুঃখ প্রকাশ করেনি তারা। এসব অপরাধের পর এখন বিদেশ থেকে ফিরে আসার হুমকি দিয়ে তারা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পায়তারা করছে। তাদের এমন আহ্বানে দেশের মানুষ সাড়া দেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, যারা এ দেশে ১৪০০ নাগরিককে হত্যা করেছে একই মাসের মধ্যে; ১৫ বছরের হিসাব নাইবা দিলাম, ৭ হাজারের উপরে ছিল বিচারবহির্ভুত কিলিং, যেটা পারসিকিউশন হয়েছে, এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স হয়েছে, কাস্টোডিয়াল ডেথ। যারা এক মাসে ১৪০০ মানুষকে হত্যা করতে পারে, আসমান থেকেই গুলি করে যাদেরকে, দেশের নাগরিককে হত্যা করতে পারে, বাংলাদেশের সমস্ত ইনস্টিটিউশনকে ধূলিসাৎ করে এ দেশকে গণতন্ত্রহীন একটা রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলতে পেরেছিল, সেই শক্তিকে বাংলাদেশের মানুষ কি কখনো আহ্বান জানাবে। বাংলাদেশের মানুষ নাকি তাদেরকে রাজনীতির জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে একটি স্বতন্ত্র ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ চালুর ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর কার্যক্রম রাজধানী থেকে শুরু করে বিভাগ, জেলা ও থানা পর্যায়ে বিস্তৃত থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ফরেনসিক ল্যাবের সুবিধাসম্বলিত এই ইউনিটের জন্য প্রয়োজনে নতুন পদ তৈরি করা হবে এবং প্রতিটি স্তরে গোয়েন্দা ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল মো. আলী হোসেন ফকির। এ সময় তার সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। বীরত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড, সেবায় অসামান্য অবদান এবং চাঞ্চল্যকর মামলার সফল তদন্তসহ বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে আইজিপিসহ পুলিশের মোট ৯২ জন সদস্যকে বিশেষ পদকে ভূষিত করা হয়।



















