সবজির পর ডিমের বাজারেও অস্থিরতা: হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ
- আপডেট সময় : ১২:১৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 13
সবজির চড়া দামের কারণে আমিষের চাহিদা মেটাতে অনেকেই ডিমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে এক ডজন ফার্মের ডিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে ডিমের হালি ৫৫ টাকা করে রাখা হচ্ছে, যার ফলে এক ডজন ডিমের দাম পড়ছে ১৬৫ টাকা পর্যন্ত।
তেজগাঁওয়ের পূর্ব নাখালপাড়া সমিতি বাজারে ডিম কিনতে আসা আলেয়া বেগম বলেন, সবজির আকাশচুম্বী দামের কারণে তারা ডিম বেশি খাচ্ছেন, কিন্তু এখন ডিমের দামও আগুন। তিনি জানান, তার স্বামী একজন রংমিস্ত্রি হিসেবে দৈনিক ৬০০ টাকা আয় করেন। মাছ বা মাংস কেনার সামর্থ্য না থাকায় ডিম ও সবজিই তাদের সংসারের একমাত্র সম্বল, কিন্তু এখন তা কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় চার মাস আগে ডিমের ডজন ১০০ থেকে ১১০ টাকায় নেমে এসেছিল। কিন্তু এরপর থেকেই ধীরে ধীরে দাম বাড়ছে। বর্তমানে কারওয়ান বাজার ও নাখালপাড়া এলাকায় ফার্মের সাদা ডিম ১৪০-১৪৫ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪৫-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টিসিবির তথ্যমতে, গত এক মাসে ডিমের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
ডিমের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ভোক্তা-সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঢাকার ব্যবসায়ীরা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সারাদেশের ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণ করেন এবং এর মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সাইফুল গাজীর ভাষ্য, পাইকাররা মাঝেমধ্যেই দাম হেরফের করেন, যে কারণে খুচরা বাজারে অস্থিরতা লেগেই থাকে।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ডিমের দাম ১৬০-১৬৫ টাকায় পৌঁছালে ব্যাপক জনরোষের মুখে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতিটি ডিমের দাম ১১ টাকা ৮৭ পয়সা অর্থাৎ ডজন ১৪২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি আবার সেই সময়ের চেয়েও খারাপ দিকে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন অনেকেই।
চট্টগ্রামের বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বন্দরনগরীর বহদ্দারহাট ও চৌমুহনী বাজারে সপ্তাহ ব্যবধানে ডিমের ডজন ১৪০-১৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০-১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ী আহমেদ ফারুকের মতে, বৃষ্টির পর থেকেই সরবরাহকারী খামারি ও আড়তদারদের কারসাজিতে দাম বাড়তে শুরু করেছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অসাধু চক্র নিয়মিত নিত্যপণ্য নিয়ে কারসাজি করছে। তিনি বাজার তদারকির অভাবকে দায়ী করে জানান, গরিবের পাতে ডিমের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
চট্টগ্রামে দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লাখ ডিমের চাহিদা রয়েছে। বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসের ভয়াবহ বন্যায় ছয় হাজারের বেশি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ডিম উৎপাদনকারী লেয়ার খামারও রয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক আতিয়া সুলতানা জানিয়েছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রতিদিন তদারকি চালানো হচ্ছে এবং কোনো কারসাজি হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সে হিসাবে ডজনের দাম দাঁড়ায় ১৬৫ টাকা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এক হালি নিয়েছি ৫৫ টাকা।’ তিনি জানান, তাঁর স্বামী একটি ওয়ার্কশপে দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরিতে রংমিস্ত্রির কাজ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ডিমের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ জানান, ডিমের বড় একটি অংশ টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় আসে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাজার তদারকির ঘাটতির সুযোগে ভোক্তাদের হয়রানি করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে ডিমের ডজন ১৬০ টাকা ছাড়িয়ে গেলে দেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন সরকার দাম নির্ধারণ করে দিতে বাধ্য হয়েছিল।


















