ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বৈরাচার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি টঙ্গীর তুরাগ নদে নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্য করলে ব্যবস্থা ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৪ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রোহিঙ্গাদের গ্রাম দখল ও নিরাপত্তা ঘটনায় আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আহ্বান প্রেসিডেন্টের সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা ঘটাতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্য করলে ব্যবস্থা

  • আপডেট সময় : ০৫:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির খুচরা বাজারে চলমান অস্থিরতা কাটাতে এবং সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে মাঠে নেমেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে, যা প্রকৃত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমান বাজারে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ নেই। কিন্তু, প্রকৃত চিত্র একেবারে ভিন্ন। উল্লেখ্য, প্রতি মাসেই সরকারের পক্ষ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও, সেই দামের চেয়ে বেশিতে ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি আসছেন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় জানানো হয়, এখন থেকে খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে সকল স্তরের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বেঁধে দেওয়া সরকারি মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যেখানে আগস্ট মাসে আমদানি হয়েছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় এই আমদানির পরিমাণ পর্যাপ্ত।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও এলওএবি নেতাদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের বাজার মনিটরিং করার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। মূলত ওই সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই এলওএবি তাদের সদস্যদের এই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।

বর্তমানে ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, খুচরা ব্যবসায়ীরা সংকটের দোহাই দিয়ে এই সিলিন্ডার বিক্রি করছেন ২১০০ থেকে ২৬০০ টাকায়। অর্থাৎ ভোক্তাদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এমন অতিরিক্ত মূল্যের দায়ভার ডিলারদের ওপর চাপালেও সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে।

এলওএবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বা পণ্য মজুত করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্য করলে ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৫:২৯:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির খুচরা বাজারে চলমান অস্থিরতা কাটাতে এবং সাধারণ ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে মাঠে নেমেছে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি)। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম আদায় করছে, যা প্রকৃত পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বর্তমান বাজারে এলপিজির সরবরাহ পর্যাপ্ত রয়েছে এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির সুযোগ নেই। কিন্তু, প্রকৃত চিত্র একেবারে ভিন্ন। উল্লেখ্য, প্রতি মাসেই সরকারের পক্ষ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও, সেই দামের চেয়ে বেশিতে ভোক্তাদের কাছে তা বিক্রি আসছেন খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এলওএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় জানানো হয়, এখন থেকে খুচরা বিক্রেতা থেকে শুরু করে সকল স্তরের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) বেঁধে দেওয়া সরকারি মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পরিস্থিতি যথেষ্ট সন্তোষজনক। গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যেখানে আগস্ট মাসে আমদানি হয়েছিল ১ দশমিক ৫৮ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় এই আমদানির পরিমাণ পর্যাপ্ত।

এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও এলওএবি নেতাদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি মন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের বাজার মনিটরিং করার জন্য কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। মূলত ওই সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতেই এলওএবি তাদের সদস্যদের এই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।

বর্তমানে ১২ কেজি ওজনের প্রতিটি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে অভিযোগ রয়েছে, খুচরা ব্যবসায়ীরা সংকটের দোহাই দিয়ে এই সিলিন্ডার বিক্রি করছেন ২১০০ থেকে ২৬০০ টাকায়। অর্থাৎ ভোক্তাদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা এমন অতিরিক্ত মূল্যের দায়ভার ডিলারদের ওপর চাপালেও সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে।

এলওএবি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি বা পণ্য মজুত করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে। বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংগঠনটি। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।