সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:১০:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 20
সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার লক্ষ্যে একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর এই খসড়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডার এবং আইটি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এই আইনটি কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক হিসেবে যেন গণ্য না হয়, সেটিই সরকারের মূল লক্ষ্য। ক্যাবিনেটে আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমার যেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করি। যারা সাইবার স্পেসে কাজ করেন, আইটি এক্সপার্ট তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত গ্রহণের জন্য ওয়েবসাইটে আমরা খসড়া প্রকাশ করেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রিন্ট অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সমস্ত প্রতিনিধি, সম্পাদক এবং বিশিষ্ট সাংবাদিকসহ, বিশেষ করে সংবাদপত্রের সংগঠন, বিভিন্ন অ্যাসোশিয়েনসহ সবার সঙ্গে কথা বলেছি।’। আমরা মনে করি, সবার আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে আইনটা সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা, নোয়াব সভাপতি ও প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ এবং অ্যাটকোর মহাসচিব ও ইটিভির চেয়ারম্যান আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, খসড়াটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। সেখান থেকে শিক্ষার্থী, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত মতামতগুলো যাচাই-বাছাই ও সংকলন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমকে হয়রানি করা এই আইনের উদ্দেশ্য নয়। বরং সব স্তরের মানুষ যাতে সুরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য। সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি এড়াতে পদক্ষেপ নেয়ার আগে আদালতের অনুমতি নেয়ার মতো প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। আপিল নিষ্পত্তিতে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যাতে কেউ দীর্ঘ সময় আইনি জটিলতায় ঝুলে না থাকেন। মিডিয়াকে টার্গেট করে এই আইনটা করতে চাইনি, চাইও না এবং কোনো সাংবাদিক এটার শিকার হোক—সেটা আমরা চাই না।’ ‘যাতে সংবাদপত্র এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন মিডিয়ার কোনো সাংবাদিক অন্যায়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্য একটা প্রস্তাবও এখানে করা হয়েছে যে, তাদের।
তবে খসড়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিকরা। প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংশোধনী ছাড়া এই আইন পাস হলে বাংলাদেশ একটি বৃহৎ কারাগারে পরিণত হতে পারে। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট দিয়ে সাংবাদিকদের বিচার ও গ্রেপ্তারের ধারাটি বাতিলের আহ্বান জানিয়ে একে ‘জঘন্য কালো আইন’ বলে অভিহিত করেন। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, করোনাকালীন সময়ে তাকে ছয়বার আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছিল।
ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এই আইনের খসড়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এই আইন কার্যকর হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমের বিষয়টি কীভাবে যুক্ত হলো, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনার মাধ্যমে সবাই মিলে এমন একটি প্রস্তাব তৈরি করা সম্ভব হবে, যা গণমাধ্যমের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


























