সাজেকে গোলাগুলি: ২৯৩৩ পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নিল নিরাপত্তা বাহিনী
- আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
- / 2
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক পর্যটন সড়কে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাজেকে আটকা পড়া দুই হাজার ৯৩৩ পর্যটককে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে তিন দফা দাবি আদায়ে সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে। অবরোধকারী সংগঠনগুলোর দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যরা মাচলং, থালকুম্ভো, চিল্ল্যাতুলি কুটির, নোয়াপাড়া, লাম্বাবাক ও ভুয়োছড়িসহ সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। এই সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে প্রত্যাহার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো। এর আগে ১১ অক্টোবর থেকে দফায় দফায় কর্মসূচি পালন করলেও দুর্গাপূজা উপলক্ষে তা ২১ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল।
পুলিশ ও সেনাবাহিনী জানায়, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় একটি বিশেষ বহর তৈরি করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই বহরটি সাজেক থেকে বাঘাই হাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বহরটি সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা পথ আটকে দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
অবরোধের কারণে সাজেকে বসবাসরত লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন বিঘ্নিত হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর আগে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বুধবার রাতে অবরোধের বিষয়টি অবহিত করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

























