সারের দাবিতে হাতীবান্ধায় মহাসড়ক অবরোধ করলেন কৃষকরা
- আপডেট সময় : ০৩:২৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / 4
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। মঙ্গলবার সকালে পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধের ফলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় সার ডিলার কালোবাজারে সার বিক্রি করছেন এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে সার বিতরণ করছেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে যান চলাচলে তীব্র বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার সকালে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ঘুরেও সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে আমরা মহাসড়কে নেমে অবরোধ করেছি।’। সার ছাড়া জমিতে ঠিকমতো আবাদ করা যায় না। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফসল লাল হয়ে যায় এবং ফলন চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভুক্তভোগী কৃষকদের ভাষ্যমতে, সার ডিলারের বাড়ি বগুড়ায় হওয়ায় তিনি স্থানীয় জাদু মেম্বার ও ভুট্টু নামের দুই ব্যক্তিকে বিতরণের মূল দায়িত্ব দিয়েছেন। এরাই একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে গভীর রাতে নিজেদের পছন্দের লোকদের ১০-১২ বস্তা করে সার দিচ্ছে, অথচ সাধারণ কৃষকরা দিনের পর দিন ঘুরেও সার পাচ্ছেন না। ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল জানান, চাষাবাদের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সার না পেলে কৃষকের জীবন বাঁচানো দায়। তিনি দাবি করেন, সঠিক চাষাবাদের প্রয়োজনে বাড়তি ১০০-২০০ টাকা দাম দিয়ে সার কিনতে রাজি থাকলেও তারা ন্যায্য সরবরাহ পাচ্ছেন না। ১ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক একরামুল বলেন, ‘যে সময় সারের প্রয়োজন, সে সময়ে যদি সার না পাই, তাহলে কৃষক ও তাদের পরিবার কীভাবে বাঁচবে। প্রয়োজনে খোলাবাজারে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দিয়েও সার কিনতে রাজি আছি, তবুও যেন সঠিকভাবে চাষাবাদ করতে পারি।
চরাঞ্চলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মমিনুর ইসলাম ডিলার প্রথার পরিবর্তে খোলাবাজারে সার সরবরাহের দাবি জানিয়ে বলেন, কালোবাজারে সার বিক্রির ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন। ভুট্টা চাষি আজিজুল ইসলাম জানান, আগাম ভুট্টা চাষের মৌসুমে সময়মতো সার না পাওয়ায় ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং দ্রুত সার নিশ্চিত করতেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান কৃষকরা। পাশাপাশি কালোবাজারে সার বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’। আমাদের সারা বছরের সংসার চলে এই ভুট্টা চাষের ওপর। কৃষকেরা আমাদের কথা শুনে কার্ডগুলো জমা দিয়েছেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাতীবান্ধা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন-অর রশিদ জানান, ডিলারের কাছে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বিতরণ কার্যক্রম চলমান। তিনি দাবি করেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ছয়টি ওয়ার্ডে বিতরণ শেষ হবে এবং বর্তমানে কোনো ধরনের কালোবাজারির সুযোগ নেই। আগামী মাসের বরাদ্দের সারও প্রয়োজনে দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।
অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপ জন মিত্র বলেন, কৃষকদের ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। কার্ডধারী সকল কৃষককেই সার দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি। পরে কৃষকরা প্রশাসনের কথায় আশ্বস্ত হয়ে কার্ড জমা দেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। প্রশাসন দ্রুত সার কার্ড যাচাই-বাছাই করে বিতরণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে বলে জানিয়েছেন ইউএনও।

























