ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জে বাড়ছে পাট বীজ উৎপাদনের আগ্রহ

  • আপডেট সময় : ০১:৩০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
  • / 5
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ‘পাটের বিছন’ বা পাট বীজ উৎপাদনের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পাটের ভালো দামের পাশাপাশি পাটখড়ি বা সোলা থেকে অতিরিক্ত আয় হওয়ার সুযোগ থাকায় কৃষকরা এখন পাট না কেটে বীজ উৎপাদনের জন্য জমিতে রেখে দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে দেশীয় সাদা জাতের পাটের আবাদই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার প্রতিটি জমিতেই পাটের ফুলে ভালো পরিমাণে বীজ গুটি দেখা যাচ্ছে। উপজেলায় প্রতি বছরই পাট চাষির সংখ্যা বাড়ছে।

উপজেলার নাগরৌহা, ছোট বাখুয়া, পংরৌহা, ভদ্রকোল, পুকুরপাড়, বেতুয়া, ছয়বারিয়া এবং পুঠিয়া মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ কৃষকরা পাট বীজ সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব মাঠে দেশীয় জাতের সাদা পাট ছাড়াও মেছতা, তোষা ও কেনাফ বা আসমান তারা জাতের পাটের চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্গানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের পাট গাছের ওপরের অংশ বা বীজসহ ডগা কেটে বাড়ির আঙিনায় শুকানোর কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে।

উল্লাপাড়া বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পাট বীজ উৎপাদনে আগ্রহী ৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে উন্নতমানের সরকারি বীজ দেওয়া হয়েছে। নাগরৌহা মাঠের আজিম উদ্দিন, মেহের প্রামাণিক, সাইদুল ইসলামসহ অন্যরা এই সরকারি সহায়তায় সিভিএল-১ জাতের প্রত্যয়িত পাট বীজ আবাদ করছেন। কৃষক মেহের আলী প্রামাণিক জানান, তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে এই বীজ আবাদ করেছেন এবং উৎপাদিত বীজ সরকারি দপ্তরেই পুনরায় বিক্রির সুযোগ পাবেন।

সরকারি প্রকল্পের বাইরেও অনেক কৃষক নিজস্ব উদ্যোগে পাট বীজ উৎপাদন করছেন। জাফর আলী, মোকাই হোসেন ও আবদুল করিমের মতো অনেক কৃষক স্থানীয় হাট কিংবা অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেছেন। কৃষক জাফর আলী বলেন, বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় বীজ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সরকারি সহায়তায় যারা বীজ উৎপাদন করছেন, তাদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদিত বীজ পরবর্তীতে বিএডিসি কিনে নেবে বলে জানিয়েছেন বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (পাট বীজ) মোছা. মরিয়ম বেগম। একই মাঠে কৃষক জাফর আলী, মোকাই হোসেন, আবদুল করিম, জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০-১২ জন কৃষক হাট বা অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ কিনে আবাদ করেছেন এবং এখন তা থেকে বীজ রাখছেন।

পাট চাষিদের মধ্যে বীজ রাখার এই প্রবণতা এলাকায় বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, পাটের আঁশ বিক্রির পাশাপাশি বীজ থেকে বাড়তি আয় তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। সব মিলিয়ে উল্লাপাড়ার কৃষি অর্থনীতিতে পাট চাষ ও বীজ উৎপাদন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এলাকায় দিন দিন পাট চাষে লাভের পরিমাণ বাড়ায় বীজ রাখার প্রবণতাও লক্ষ্যণীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জে বাড়ছে পাট বীজ উৎপাদনের আগ্রহ

আপডেট সময় : ০১:৩০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় চলতি মৌসুমে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ‘পাটের বিছন’ বা পাট বীজ উৎপাদনের আগ্রহ ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পাটের ভালো দামের পাশাপাশি পাটখড়ি বা সোলা থেকে অতিরিক্ত আয় হওয়ার সুযোগ থাকায় কৃষকরা এখন পাট না কেটে বীজ উৎপাদনের জন্য জমিতে রেখে দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে দেশীয় সাদা জাতের পাটের আবাদই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার প্রতিটি জমিতেই পাটের ফুলে ভালো পরিমাণে বীজ গুটি দেখা যাচ্ছে। উপজেলায় প্রতি বছরই পাট চাষির সংখ্যা বাড়ছে।

উপজেলার নাগরৌহা, ছোট বাখুয়া, পংরৌহা, ভদ্রকোল, পুকুরপাড়, বেতুয়া, ছয়বারিয়া এবং পুঠিয়া মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ কৃষকরা পাট বীজ সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এসব মাঠে দেশীয় জাতের সাদা পাট ছাড়াও মেছতা, তোষা ও কেনাফ বা আসমান তারা জাতের পাটের চাষ হয়েছে। ইতিমধ্যে দুর্গানগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের পাট গাছের ওপরের অংশ বা বীজসহ ডগা কেটে বাড়ির আঙিনায় শুকানোর কাজে ব্যস্ত দেখা গেছে।

উল্লাপাড়া বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে পাট বীজ উৎপাদনে আগ্রহী ৭০ জন কৃষককে বিনামূল্যে উন্নতমানের সরকারি বীজ দেওয়া হয়েছে। নাগরৌহা মাঠের আজিম উদ্দিন, মেহের প্রামাণিক, সাইদুল ইসলামসহ অন্যরা এই সরকারি সহায়তায় সিভিএল-১ জাতের প্রত্যয়িত পাট বীজ আবাদ করছেন। কৃষক মেহের আলী প্রামাণিক জানান, তিনি প্রায় দুই বিঘা জমিতে এই বীজ আবাদ করেছেন এবং উৎপাদিত বীজ সরকারি দপ্তরেই পুনরায় বিক্রির সুযোগ পাবেন।

সরকারি প্রকল্পের বাইরেও অনেক কৃষক নিজস্ব উদ্যোগে পাট বীজ উৎপাদন করছেন। জাফর আলী, মোকাই হোসেন ও আবদুল করিমের মতো অনেক কৃষক স্থানীয় হাট কিংবা অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে আবাদ করেছেন। কৃষক জাফর আলী বলেন, বাজারে পাটের ভালো দাম পাওয়ায় বীজ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সরকারি সহায়তায় যারা বীজ উৎপাদন করছেন, তাদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদিত বীজ পরবর্তীতে বিএডিসি কিনে নেবে বলে জানিয়েছেন বিএডিসির উপ-সহকারী পরিচালক (পাট বীজ) মোছা. মরিয়ম বেগম। একই মাঠে কৃষক জাফর আলী, মোকাই হোসেন, আবদুল করিম, জাহিদুল ইসলামসহ আরও ১০-১২ জন কৃষক হাট বা অন্য গৃহস্থের কাছ থেকে বীজ কিনে আবাদ করেছেন এবং এখন তা থেকে বীজ রাখছেন।

পাট চাষিদের মধ্যে বীজ রাখার এই প্রবণতা এলাকায় বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, পাটের আঁশ বিক্রির পাশাপাশি বীজ থেকে বাড়তি আয় তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। সব মিলিয়ে উল্লাপাড়ার কৃষি অর্থনীতিতে পাট চাষ ও বীজ উৎপাদন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এলাকায় দিন দিন পাট চাষে লাভের পরিমাণ বাড়ায় বীজ রাখার প্রবণতাও লক্ষ্যণীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।