সৌদিতে দুই বাংলাদেশির দণ্ড কার্যকর নিয়ে স্পষ্টীকরণ চাইল ঢাকা
- আপডেট সময় : ১২:১৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তারের মামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ। গত ১৪ অক্টোবর এই দণ্ড কার্যকরের পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও অস্পষ্টতা থাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ডের তথ্য জানা থাকলে মিশন তাঁদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নিতে পারত। বৈঠকে তিনি কূটনৈতিক পত্রটি হস্তান্তর করেন। বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মরদেহ কি বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে। ফলে মৃত্যুদণ্ডের কথা না জেনে তাঁদের কনস্যুলার সেবা দিতে পারেনি বাংলাদেশ। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের দায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক ওই চিঠিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ছয়টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দণ্ডপ্রাপ্তদের অপরাধের ধরন ও প্রকৃতি কী ছিল, অপরাধটি কবে এবং কোথায় সংঘটিত হয়েছিল এবং তাদের কখন গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় তাদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা বা আইনজীবী ছিল কি না এবং বর্তমানে তাদের মরদেহের অবস্থান কোথায়—এসব তথ্য দ্রুত জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এটি কি প্রকাশ্যে তলোয়ারের আঘাতে শিরশ্ছেদ, নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে হয়েছে। তদন্ত ও বিচার চলাকালে দুই অপরাধীর পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং দুজনের কেউ আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো নথিপত্র বা ব্যাখ্যা প্রদান করেনি। কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, সৌদি সরকার নিয়মিতভাবে কারাবন্দী ও দণ্ডিত বাংলাদেশিদের একটি তালিকা বাংলাদেশ মিশনকে প্রদান করে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাঠানো তালিকায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশিসহ মোট ২২ জনকে দণ্ড দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও, সেখানে সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা শাস্তির ধরনের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু ছিল না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোর কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় আড়াই হাজার বন্দীর তালিকা পাঠিয়েছিল। এতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনসহ ২২ জন বাংলাদেশিকে দণ্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়ি তাঁদের কী ধরনের শাস্তি হয়েছে। তাই ওই ২০ জনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে সৌদি আরবকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এই তালিকার তথ্যের সঙ্গে বর্তমানে কার্যকর হওয়া দণ্ডের তথ্যের অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে ‘ব্যভিচার’ এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে ‘আইসিটি’ বা তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের সঙ্গে তালিকার তথ্যের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। বিষয়টি নিয়ে গত ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানেও কনসাল জেনারেল অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণ জানতে চেয়েছেন। তালিকার অভিযোগ আর এই বিবৃতি কীভাবে মেলে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ঢাকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, জেদ্দায় বাংলাদেশ মিশনের কাছে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কোনো তথ্য নেই। সৌদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আদালত ও আপিল আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই মাসে দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুাময়ুন কবির সম্প্রতি সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, অভিযোগ এনে এভাবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দুঃখজনক। এখন পর্যন্ত সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের পাঠানো ওই কূটনৈতিক চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর দেয়নি। বাংলাদেশের দুই নাগরিককে শাস্তিদানের বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত রায়ের কপি।

























