সৌদিতে ফ্লাইট বাতিল: অনিশ্চয়তায় ১৫ হাজার প্রবাসী যাত্রী
- আপডেট সময় : ০৮:৩২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার জের ধরে ঢাকা থেকে আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গত ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১০০টি ফ্লাইট বাতিল অথবা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী আটকা পড়েছেন। বিশেষ করে যেসব প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তারা সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন।
বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে ৪১টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৫৯টি। সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে সকল ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তবে মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিমানবন্দর স্বাভাবিক রয়েছে এবং জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ বিমানবন্দরেও উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ অব্যাহত আছে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এয়ারলাইন্সগুলো এখন যাত্রীদের মদিনা বা জেদ্দা হয়ে গন্তব্যে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যাত্রীদের বিনামূল্যে সুযোগ দেওয়া হলেও আসন সংকট নতুন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যাদের ভিসার মেয়াদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, তাদের টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিকল্প ফ্লাইটে যাত্রীদের জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে, তবে আগে থেকে বুকিং থাকায় অনেক সময় দ্রুত আসন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিমানবন্দর এলাকায় চরম ভোগান্তির চিত্রও উঠে এসেছে। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও অনেক যাত্রীকে বিমান থেকে ফিরিয়ে আনার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব যাত্রীদের পরবর্তী সম্ভাব্য ফ্লাইটে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি এয়ারলাইন্সই তাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছে, কিন্তু আগে থেকে বুকিং থাকা যাত্রী এবং নতুন ফ্লাইটের আসন সংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখা এই মুহূর্তে বড় ধরনের সীমাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

























