ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শাহজালাল বিমানবন্দরেই দায়িত্ব পালন করছেন ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খান সিরাজগঞ্জে মাদক মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড তিন সিটির উন্নয়নসহ ১৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন লটারি বাতিল করে স্কুলে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ রসায়নে নোবেল পেলেন জাপান ও ফ্রান্সের দুই বিজ্ঞানী দেশের চারটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে কমছে যাত্রী সংখ্যা জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, লিটারে বৃদ্ধি ১৭ টাকা বড়াইগ্রামের সানাউল্লাহ বাবু নিহতের ১৬ বছর: বিচারের অপেক্ষায় পরিবার দিল্লিতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উচ্চপর্যায়ের সিরিজ বৈঠক রাজাপুরে যুবদল নেতাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ফেরত না

  • আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 15
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সৌদি আরবে মাদক পাচারের অভিযোগে দণ্ডিত প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এতে শোকার্ত পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনের শেষ বিদায় ও ধর্মীয় রীতি পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার কয়েকটি পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে স্বজনদের মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

চলতি বছরের জুন মাসে সৌদি আরবে গাঁজা পাচারের দায়ে পাঁচজন ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই পাঁচজনের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী কিব্রম কিনফে আরেগাউই অন্যতম। কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই জানান, ধর্মীয় বিধান মেনে ছেলেকে সমাহিত করার সব প্রস্তুতি তারা নিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মরদেহ হস্তান্তর না করায় সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ সম্ভব হয়নি, যা তাদের জীবনে এক দীর্ঘস্থায়ী শোকের ক্ষত হয়ে থাকবে।

ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মৃতদেহ দেশে এনে স্বজনদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর মরদেহ আটকে রাখায় সেই ঐতিহ্যবাহী প্রথা পালন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবারগুলোর ভাষ্যমতে, প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখা এবং ধর্মীয় মর্যাদায় সমাহিত করার মানবিক অধিকারটুকু তাদের থাকা উচিত। মরদেহ না পাওয়ায় তারা স্বাভাবিক শোক পালনের গণ্ডি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৭ জুলাই পর্যন্ত এক বছরে সৌদি আরবে মোট ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইরান ও চীনের পরেই বিশ্বের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় সৌদি আরবের অবস্থান। ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনি এই প্রক্রিয়াকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, মরদেহ ফেরত না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং এটি দণ্ডিত ব্যক্তির পরিবারের ওপর এক ধরনের বাড়তি মানসিক নিপীড়ন।

মাদকবিরোধী কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড ও মরদেহ হস্তান্তরে অনীহার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। শোকাহত পরিবারগুলো এখন কেবল তাদের স্বজনদের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে অন্তত পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে তাদের শেষ বিদায় জানানো সম্ভব হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রবাসীদের মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি ফেরত না

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে মাদক পাচারের অভিযোগে দণ্ডিত প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফেরত না দেওয়ার ঘটনায় তীব্র মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এতে শোকার্ত পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনের শেষ বিদায় ও ধর্মীয় রীতি পালনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে ইথিওপিয়ার কয়েকটি পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে স্বজনদের মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।

চলতি বছরের জুন মাসে সৌদি আরবে গাঁজা পাচারের দায়ে পাঁচজন ইথিওপিয়ান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এই পাঁচজনের মধ্যে ২৫ বছর বয়সী কিব্রম কিনফে আরেগাউই অন্যতম। কিব্রমের বাবা কিনফে আরেগাউই জানান, ধর্মীয় বিধান মেনে ছেলেকে সমাহিত করার সব প্রস্তুতি তারা নিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মরদেহ হস্তান্তর না করায় সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ সম্ভব হয়নি, যা তাদের জীবনে এক দীর্ঘস্থায়ী শোকের ক্ষত হয়ে থাকবে।

ইথিওপিয়ান অর্থোডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মৃতদেহ দেশে এনে স্বজনদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর মরদেহ আটকে রাখায় সেই ঐতিহ্যবাহী প্রথা পালন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবারগুলোর ভাষ্যমতে, প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখা এবং ধর্মীয় মর্যাদায় সমাহিত করার মানবিক অধিকারটুকু তাদের থাকা উচিত। মরদেহ না পাওয়ায় তারা স্বাভাবিক শোক পালনের গণ্ডি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৭ জুলাই পর্যন্ত এক বছরে সৌদি আরবে মোট ১১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইরান ও চীনের পরেই বিশ্বের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় সৌদি আরবের অবস্থান। ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এবং রিপ্রিভ মেনার কেসওয়ার্ক কনসালট্যান্ট দুয়া ধাইনি এই প্রক্রিয়াকে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার মতে, মরদেহ ফেরত না দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং এটি দণ্ডিত ব্যক্তির পরিবারের ওপর এক ধরনের বাড়তি মানসিক নিপীড়ন।

মাদকবিরোধী কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড ও মরদেহ হস্তান্তরে অনীহার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। শোকাহত পরিবারগুলো এখন কেবল তাদের স্বজনদের মরদেহ ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে অন্তত পারিবারিক ও ধর্মীয় রীতি মেনে তাদের শেষ বিদায় জানানো সম্ভব হয়।