দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় সৌদির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৭:০৪:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
- / 8
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ঘটনায় তথ্য বিনিময়ে ঘাটতি ছিল, যা অত্যন্ত হতাশাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। ঘটনাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি আরবের কাছে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ। দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে এ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান। ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, এটা যদি হয়ে থাকে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে এটা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না। এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা বলছি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব উভয় দেশই জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী। আন্তর্জাতিক আইন ও প্রথা অনুযায়ী, কোনো দেশের নাগরিক অন্য দেশে অপরাধের অভিযোগে আটক হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশকে জানানো জরুরি, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি কনস্যুলার সহায়তা ও আইনি পর্যবেক্ষণ পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি বা তথ্যের ঘাটতি ছিল কি না, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যদি অপরাধ প্রমাণিত হয় তবে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হতে পারে, কিন্তু তাতে স্বচ্ছতা ও যোগাযোগ বজায় রাখা প্রয়োজন ছিল।
এর আগে, ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে ও উদ্বেগ জানাতে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ. বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি সরকারকে পাঠানো আগের কূটনৈতিক পত্রের একটি অনুলিপিও রাষ্ট্রদূতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ব্লাড মানি বা আর্থিক ক্ষতিপূরণের কোনো সুযোগ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন সেই সুযোগ আর নেই।
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত গভীর উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় ও তাদের পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিক বিষয়ে প্রক্রিয়াগত ঘাটতি কোথায় হয়েছে, তা স্পষ্ট করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ঐতিহাসিক।






















