১৫ বার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর অ্যামাজনে কোটি টাকার চাকরি পেলেন ভারতীয় তরুণ
- আপডেট সময় : ১১:২২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 18
প্রথাগত কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি না থাকলেও প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়ার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ভারতের গন্তব্য মালভিয়া। ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এই তরুণ নিজের কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্যের পথটি মোটেও সহজ ছিল না; অ্যামাজনে কাজ পাওয়ার আগে তাঁকে প্রায় ১৫ বার প্রত্যাখ্যাত হতে হয়েছে।
মালভিয়া ভারতের এলএনসিটি ভোপাল থেকে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক সম্পন্ন করেন। মূল বিষয় কম্পিউটার সায়েন্স না হলেও প্রথম বর্ষ থেকেই তিনি প্রোগ্রামিংয়ের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নিজের দক্ষতা বাড়াতে তিনি নিয়মিত কোডিং অনুশীলন ও প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামিংয়ে মনোনিবেশ করেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি লিটকোডে ৬৫০টির বেশি সমস্যা সমাধান করেছেন এবং ১ হাজার ৯৮০-এর বেশি রেটিং অর্জন করেছিলেন। শুধু তাত্ত্বিক পড়াশোনা নয়, বরং ইন্টার্নশিপ এবং বিভিন্ন বাস্তবধর্মী প্রকল্পে কাজ করার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তৈরির অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে তিনি বিভিন্ন দেশে অ্যামাজনের চাকরির বিজ্ঞপ্তির জন্য নিয়মিত আবেদন করতেন। একের পর এক প্রত্যাখ্যান এলেও তিনি হাল ছাড়েননি। শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে অ্যামাজনের একটি সুযোগের জন্য তিনি নির্বাচিত হন এবং কঠোর বাছাই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেন। এলএনসিটির প্লেসমেন্ট রেকর্ডেও অ্যামাজনে প্রায় ১.১০ কোটি রুপির প্যাকেজে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর বার্ষিক প্যাকেজ প্রায় ১.১ কোটি রুপি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা তাঁর দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফসল।
২০২৩ সালের আগস্টে মালভিয়া অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন। জার্মানিতে তিনি বড় পরিসরের ব্যাকএন্ড সিস্টেম এবং বিতরণকৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করেছেন। তবে অ্যামাজনের সেই অধ্যায় এখন সমাপ্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক পেশাগত আপডেটে তিনি জানিয়েছেন, অ্যামাজন ছেড়ে তিনি ট্যাক্সফিক্সে যোগ দিচ্ছেন। অর্থাৎ ১৫টি প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে অ্যামাজনে পৌঁছানোর গল্পের পর তাঁর প্রযুক্তি ক্যারিয়ারে এখন নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।
মালভিয়ার এই সাফল্যের গল্প কেবল ১.১ কোটি রুপির চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কম্পিউটার সায়েন্সের ডিগ্রি না থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন, বাস্তব প্রকল্পে কাজ করা এবং প্রতিকূলতার মুখেও অবিচল থাকার গুরুত্বই তাঁর এই যাত্রার মূল শিক্ষা। তাঁর এই অর্জন প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে ইচ্ছুক অসংখ্য তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।





















