ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের টস বন্ডের চারটি গুদাম সিলগালা দেশের দুই জেলায় বজ্রবৃষ্টিসহ ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কবার্তা রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, শিমের কেজি ২০০ টাকা তিন মাসে দ্বিগুণ হলো এয়ার অ্যাস্ট্রার উড়োজাহাজ বহর নেতানিয়াহুকে সমর্থন নেই ট্রাম্পের, ইরান ইস্যুতে দিলেন কড়া বার্তা মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন: আগাম ভোটে ডেমোক্র্যাটদের ভালো সাড়া মিষ্টির শূন্য আসনে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন: ইসি বিএনপি জোটেরই থাকবে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি ক্যাশলেস লেনদেনে বাংলা কিউআর ব্যবহার হবে সম্পূর্ণ ফ্রি

যুবসমাজের অবক্ষয় ও আমাদের করনীয়

  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০১৭
  • / 6986
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

লেখক- হাসিনা মরিয়মঃ 

বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী দেখা যাচ্ছে তা হলো তরুনদের মাঝে নৈতিক অবক্ষয়ের বিস্তার। দিন দিন এটা মহামারীর মত বেড়েই চলেছে। একটা দেশের এবং জাতির শক্তিশালী সম্পদ হচ্ছে যুবসমাজ আর ওদের এই অবক্ষয় একদিনে তৈরী হয়নি। এই নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারন হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার অভাব, মাদকের বিস্তার, আকাশ সংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবল,  বেকারত্ব্ ওদের যথাপোযুক্ত মূল্যায়ন না করা।

যুবকেরাই দেশ ও জাতির প্রান, সমাজের গৌরব আর যখন যুব সমাজ অন্ধকারের দিকে পা বাড়ায় তখন তা জাতির জন্য ভয়ংকর রূপ ধারন করে। তাদের অবক্ষয়ের কারনে সমাজে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। যুবকেরা পৃথিবীতে শান্তি ও কল্যানের মন্ত্র প্রচার করে, আর সেই যুবসমাজ যদি পৃথিবীতে অশান্তি ও দুঃখের কারন হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা সমাজের জন্য বিপর্যয়েরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে আমরা এক অবক্ষয় সমাজের বাসিন্দা। বোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয়, ধর্মবিমুখ, ধর্মনিরপেক্ষ, ভোগবাদী সমাজের পরিণতিই হলো অবক্ষয়। ইভটিজিং, ধর্ষন ,মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল যুবসমাজে বিপর্যয় নেমে আসে। ধর্ষন সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ। ধর্ষনের মাধ্যমে শুধু একটি নারীকে নয়, একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। ফলে সেই পরিবারটিও অকালে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি একটি ঘৃনিত অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েটি আত্নহননের পথ বেছে নেয়। এর পেছনে দায়ী নৈতিক অবক্ষয়। ধর্ম বিমুখ, আকাশ সংস্কৃতি, যুব সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।জীবন ও সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো মাদকাসক্ত। যুবসমাজ আশংকাজনক হারে মাদকের দিকে ঝুকে পড়ছে। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে এর ব্যপকতা উদ্বেকজনক হারে বেড়ে চলেছে। ফলে ঐশির মত অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের অতল গহ্ববরে। বর্তমান সময়ে নীল মাদক ইয়াবা আগ্রাসনে দেশ এখন ক্ষত বিক্ষত। মাদক ব্যবহার এবং ব্যবসার সাথে জড়িত যার অধিকাংশই তরুণ।

নীতি যেখানে পদদলিত, মানুষ অবৈধ পথে অর্থের পাহাড় গড়ে তোলে, বিচারের বানী যেখানে নিরবে নিভৃতে কাঁদে, যে সমাজে মূল্যবোধ ধংসের মুখে, বেকারত্ব, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক কুপ্রভাব, অপসংস্কৃতি, অর্থনৈতিক দৈন্য যুবসমাজকে দারুনভাবে প্রভাবিত করছে। ফলে তারা সুস্থ জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝুঁকে পড়ছে নানা অবক্ষয়ের দিকে। আমাদের যুবসমাজ বড়দের মাঝে খুব কমই আদর্শবান মানুষ খুজে পাচ্ছে যাদের থেকে তারা অনুপ্রেরনা পাবে, তারা অহরহ দেখছে রাজনীতির নামে মিথ্যাচার, সমাজ সেবার নামে সেচ্ছাচার, আদর্শের নামে প্রতারণা, সমাজের সর্বস্তরে মূল্যবোধের এই অবক্ষয়ের শিকার আমাদের যুবসমাজ, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, শিক্ষাক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা  যুবসমাজকে  বিপথগামী করার ক্ষেত্রে বহুলাংশে দায়ী। অসুস্থ ছাত্র রাজনীতি নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে  সাধারন ছাত্ররা। আর তাই এখনি নিতে হবে সময়োপযুক্ত পদক্ষেপ, শিক্ষাঙ্গনকে করতে হবে শিক্ষার কারখানা। সকল প্রকার মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, উৎপাদন, বিক্রয় নিষিদ্ধ করে কঠোর  হস্তে দমন করতে হবে। অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিকে সর্বক্ষেত্রে পরিহার করতে হবে। সকল প্রকার মানুষের মৌলিক অধিকার পূরন করতে হবে।

যুব সমাজের অবক্ষয়ের কারনে দেশ ক্ষুধা  ও দারিদ্রতার মাঝে মাথা উঁচু করার শক্তি হারিয়ে ফেলছে, যুবসমাজই দেশের প্রাণশক্তি, তাদের বিপথগামীতার অর্থ হলো গোটা জাতির ধ্বংস। তারাই জাতির আশা ও আকাংখার প্রতিক। তাদের উদ্বার করতে হবে অবক্ষয়ের অতল গহ্ববর থেকে। তা না হলে গোটা জাতি অবক্ষয়ের সাগরে ডুবে মরবে। মানব সভ্যতা যুব সমাজের রয়েছে মুখ্য ভূমিকা। তাই তাদের দিকে বাড়িয়ে দিতে হবে স্নেহের হাত। ওদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিচালিত করতে হবে সঠিক পথে। ওদের বোঝাতে হবে ওদের দিকে চেয়ে আছে গোটা দেশ ও জাতি। তাই শুধু সরকার নয় এই সমাজকেও বাড়িয়ে দিতে হবে ওদের দিকে সহানুভূতির হাত। তবেই রক্ষা করা যাবে যুবসমাজ আর বাঁচবে দেশ। বয়ে আনবে সমাজের জন্য কল্যান।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

যুবসমাজের অবক্ষয় ও আমাদের করনীয়

আপডেট সময় : ০৭:২৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ অগাস্ট ২০১৭

লেখক- হাসিনা মরিয়মঃ 

বর্তমান সময়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী দেখা যাচ্ছে তা হলো তরুনদের মাঝে নৈতিক অবক্ষয়ের বিস্তার। দিন দিন এটা মহামারীর মত বেড়েই চলেছে। একটা দেশের এবং জাতির শক্তিশালী সম্পদ হচ্ছে যুবসমাজ আর ওদের এই অবক্ষয় একদিনে তৈরী হয়নি। এই নৈতিক অবক্ষয়ের মূল কারন হচ্ছে নৈতিক শিক্ষার অভাব, মাদকের বিস্তার, আকাশ সংস্কৃতির বিষাক্ত ছোবল,  বেকারত্ব্ ওদের যথাপোযুক্ত মূল্যায়ন না করা।

যুবকেরাই দেশ ও জাতির প্রান, সমাজের গৌরব আর যখন যুব সমাজ অন্ধকারের দিকে পা বাড়ায় তখন তা জাতির জন্য ভয়ংকর রূপ ধারন করে। তাদের অবক্ষয়ের কারনে সমাজে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। যুবকেরা পৃথিবীতে শান্তি ও কল্যানের মন্ত্র প্রচার করে, আর সেই যুবসমাজ যদি পৃথিবীতে অশান্তি ও দুঃখের কারন হয়ে দাঁড়ায়, তবে তা সমাজের জন্য বিপর্যয়েরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে আমরা এক অবক্ষয় সমাজের বাসিন্দা। বোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয়, ধর্মবিমুখ, ধর্মনিরপেক্ষ, ভোগবাদী সমাজের পরিণতিই হলো অবক্ষয়। ইভটিজিং, ধর্ষন ,মাদকের এই বিষাক্ত ছোবল যুবসমাজে বিপর্যয় নেমে আসে। ধর্ষন সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ। ধর্ষনের মাধ্যমে শুধু একটি নারীকে নয়, একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। ফলে সেই পরিবারটিও অকালে নিঃশেষ হয়ে যায়। এটি একটি ঘৃনিত অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েটি আত্নহননের পথ বেছে নেয়। এর পেছনে দায়ী নৈতিক অবক্ষয়। ধর্ম বিমুখ, আকাশ সংস্কৃতি, যুব সমাজকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।জীবন ও সভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো মাদকাসক্ত। যুবসমাজ আশংকাজনক হারে মাদকের দিকে ঝুকে পড়ছে। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে এর ব্যপকতা উদ্বেকজনক হারে বেড়ে চলেছে। ফলে ঐশির মত অনেকে হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের অতল গহ্ববরে। বর্তমান সময়ে নীল মাদক ইয়াবা আগ্রাসনে দেশ এখন ক্ষত বিক্ষত। মাদক ব্যবহার এবং ব্যবসার সাথে জড়িত যার অধিকাংশই তরুণ।

নীতি যেখানে পদদলিত, মানুষ অবৈধ পথে অর্থের পাহাড় গড়ে তোলে, বিচারের বানী যেখানে নিরবে নিভৃতে কাঁদে, যে সমাজে মূল্যবোধ ধংসের মুখে, বেকারত্ব, সন্ত্রাস, রাজনৈতিক কুপ্রভাব, অপসংস্কৃতি, অর্থনৈতিক দৈন্য যুবসমাজকে দারুনভাবে প্রভাবিত করছে। ফলে তারা সুস্থ জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঝুঁকে পড়ছে নানা অবক্ষয়ের দিকে। আমাদের যুবসমাজ বড়দের মাঝে খুব কমই আদর্শবান মানুষ খুজে পাচ্ছে যাদের থেকে তারা অনুপ্রেরনা পাবে, তারা অহরহ দেখছে রাজনীতির নামে মিথ্যাচার, সমাজ সেবার নামে সেচ্ছাচার, আদর্শের নামে প্রতারণা, সমাজের সর্বস্তরে মূল্যবোধের এই অবক্ষয়ের শিকার আমাদের যুবসমাজ, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, শিক্ষাক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা  যুবসমাজকে  বিপথগামী করার ক্ষেত্রে বহুলাংশে দায়ী। অসুস্থ ছাত্র রাজনীতি নামধারী সন্ত্রাসীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে  সাধারন ছাত্ররা। আর তাই এখনি নিতে হবে সময়োপযুক্ত পদক্ষেপ, শিক্ষাঙ্গনকে করতে হবে শিক্ষার কারখানা। সকল প্রকার মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, উৎপাদন, বিক্রয় নিষিদ্ধ করে কঠোর  হস্তে দমন করতে হবে। অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করতে হবে। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতিকে সর্বক্ষেত্রে পরিহার করতে হবে। সকল প্রকার মানুষের মৌলিক অধিকার পূরন করতে হবে।

যুব সমাজের অবক্ষয়ের কারনে দেশ ক্ষুধা  ও দারিদ্রতার মাঝে মাথা উঁচু করার শক্তি হারিয়ে ফেলছে, যুবসমাজই দেশের প্রাণশক্তি, তাদের বিপথগামীতার অর্থ হলো গোটা জাতির ধ্বংস। তারাই জাতির আশা ও আকাংখার প্রতিক। তাদের উদ্বার করতে হবে অবক্ষয়ের অতল গহ্ববর থেকে। তা না হলে গোটা জাতি অবক্ষয়ের সাগরে ডুবে মরবে। মানব সভ্যতা যুব সমাজের রয়েছে মুখ্য ভূমিকা। তাই তাদের দিকে বাড়িয়ে দিতে হবে স্নেহের হাত। ওদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিচালিত করতে হবে সঠিক পথে। ওদের বোঝাতে হবে ওদের দিকে চেয়ে আছে গোটা দেশ ও জাতি। তাই শুধু সরকার নয় এই সমাজকেও বাড়িয়ে দিতে হবে ওদের দিকে সহানুভূতির হাত। তবেই রক্ষা করা যাবে যুবসমাজ আর বাঁচবে দেশ। বয়ে আনবে সমাজের জন্য কল্যান।