এআইয়ের অপব্যবহার ও ঝুঁকি মোকাবিলায় কড়া নজর সরকারের
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 14
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত প্রসার ও এর নানাবিধ অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ডিপফেক ভিডিও তৈরির মাধ্যমে ব্যক্তিবিশেষকে হেয়প্রতিপন্ন করা, শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা এবং সাইবার হয়রানির মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকার নতুন করে ভাবছে। এ পরিস্থিতির মোকাবিলায় বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এআই এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌম নিরাপত্তার জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ‘সাইবার স্কোয়াড’ বা ‘বট বাহিনী’ নামে কিছু গোষ্ঠীকে শনাক্ত করেছে, যারা নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষে জনমত তৈরির উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর তথ্য, বানোয়াট ছবি ও গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছে। নিরাপত্তা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এসব অপতৎপরতা রাজনীতিবিদ, শিল্পী ও পেশাজীবীদের সুনাম ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি জাতীয় অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রযুক্তিগত এই ঝুঁকির মাত্রা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে। অ্যানথ্রপিক ও গুগল ডিপমাইন্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনিয়ন্ত্রিত এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্যও হুমকি হতে পারে। চলতি মাসের শুরুতে ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোস্কি এআই প্রযুক্তির ওপর কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ১ হাজার ৩০০ জন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি মার্কিন সরকারের প্রতি এআই উন্নয়নে আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণ ও কঠোর রাশ টানার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে সাইবার পরিসরে অপরাধের বিবর্তন ঘটছে। তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশে মোট অপরাধের ৪৪ শতাংশই এখন সাইবারকেন্দ্রিক, যা বাংলাদেশের জন্যও উদ্বেগের কারণ। এই প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং পুলিশের রেঞ্জ পর্যায়ে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ইউনিট ও গবেষণাগার স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
ভিয়েনায় ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদ, আর্থিক জালিয়াতি ও মানবপাচার দমনে এআইভিত্তিক অপরাধ শনাক্তকরণ সক্ষমতা বাড়ানোর কাজ চলছে।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে আলোচনার সময় মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুল তথ্য ও মানহানিকর কনটেন্ট রোধে সরকারের দায়বদ্ধতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সুর পাওয়া গেছে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরীর কণ্ঠে। তিনি বলেন, ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীলতা ছড়ানো বা ব্যক্তিগত আক্রমণ কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞরা সাইবার নিরাপত্তা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর সঠিক ও সতর্ক প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি, কোনো সরকারি সংস্থা যাতে নাগরিকদের সাইবার অধিকার খর্ব না করে, সেই দায়বদ্ধতার বিষয়টিও আইনে নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে সরকার এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক দিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর অপব্যবহার রোধে প্রযুক্তিগত ও আইনি কাঠামো তৈরির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এআই ব্যবহার করে ডিপফেক তৈরি, মানুষকে হয়রানি, শিশুদের লক্ষ্য করে অপতৎপরতাসহ নানা ধরনের অপব্যবহারের ঘটনায় সামাজিক ও বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের দাবি, দেশে-বিদেশে স্বার্থান্বেষী মহল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত তৈরির লক্ষ্যে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ, মতামত ও ছবি প্রচার করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এআইয়ের অপব্যবহার পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সার্বভৌম নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।’। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে নানা খাতে এর ব্যবহার বাড়ছে।



















