ঢাকা ০৭:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বৈরাচার শুধু নিজেদের উন্নয়ন করেছে: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি টঙ্গীর তুরাগ নদে নিখোঁজের ২৩ ঘণ্টা পর দুই শিশুর সরকারি মূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিতের নির্দেশ, অমান্য করলে ব্যবস্থা ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসিক এলাকায় বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৪ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন রোহিঙ্গাদের গ্রাম দখল ও নিরাপত্তা ঘটনায় আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির আহ্বান প্রেসিডেন্টের সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি অস্থিরতা ঘটাতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের গ্রাম দখল ও নিরাপত্তা ঘটনায় আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে

  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 1
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বসতি ধ্বংস এবং তাদের জমি দখলের ঘটনা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর পুরোনো কৌশলের আদলেই আরাকান আর্মি (এএ) রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, বাস্তুচ্যুতি ও ভূমি দখলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে উত্তর রাখাইনের অধিকাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। রোহিঙ্গারা পশ্চিম মিয়ানমারের একটি প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।

জাতিসংঘের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে অন্তত ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের প্রায় ৮০০ হেক্টর জমি দখল করা হয়েছে। এসব জায়গায় নতুন শিবির স্থাপন, অন্য জনগোষ্ঠীর বসতি নির্মাণ কিংবা সামরিক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণকে সুসংহত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাধীন সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাকলেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বুথিডংয়ে ১০৩টি যুদ্ধের ঘটনা ঘটলেও ২০২৫ সালে তা কমে ১২টিতে দাঁড়ায়।

রোহিঙ্গাদের দাবি, তাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুহাম্মদ আরেস নামে এক ১৮ বছর বয়সী রোহিঙ্গা জানান, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেখানে সামরিক চৌকি ও ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে। ইয়েত ন্যো তাউং গ্রামের মোহাম্মদ সাদিক জানান, কৃষকদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের দিয়েই ভারী সামরিক শ্রম ও পরিখা খননের কাজ করানো হচ্ছে। গাছপালা কেটে ফেলে বসতিগুলোর সব চিহ্ন মুছে দেওয়া হয়। ইয়েত ন্যো তাউং গ্রামের ২৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তাদের কৃষিকাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং জানিয়ে দেওয়া হয় যে জমি আর তাদের নয়।

সংঘাতের মুখে থাকা সাধারণ রোহিঙ্গারা এখন জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। রাখাইনের ধানক্ষেতের ওপর হ্নগেট থে এলাকায় গড়ে তোলা অন্তত ১০টি শিবিরে এখনো বহু রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখ।

২০২১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রোহিঙ্গারা উভয় সংকটে পড়েছে। একদিকে মিয়ানমার জান্তা বাহিনী, অন্যদিকে আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাদের ওপর নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও বাধ্যতামূলক শ্রম চাপিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় ভিডিও ফুটেজেও স্কুল, মসজিদ ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে অনেকে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ পথে মালয়েশিয়ার দিকে পা বাড়াচ্ছেন। সালামত খান নামের এক রোহিঙ্গা জানান, গ্রাম আক্রমণের সময় আরাকান আর্মির যোদ্ধারা তাদের সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছিল, “বাংলাদেশে চলে যাও, তোমাদের বাড়িঘর শেষ হয়ে গেছে, শরণার্থীশিবিরে যাও।”

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বড় ধরনের অপরাধের ইঙ্গিত দেয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক টম ড্যানেনবামের মতে, রোহিঙ্গাদের ওপর জবরদস্তি এবং তাদের বাস্তুচ্যুত করার এই সম্মিলিত প্রক্রিয়া ‘পপুলেশন ট্রান্সফার’ বা যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়তে পারে। ২০১৬-১৭ সালের নিপীড়নের ঘটনাগুলো এমনিতেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে তদন্তাধীন রয়েছে।

তবে আরাকান আর্মি দাবি করেছে, তারা সব জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থেই লড়াই করছে। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ-সমর্থিত ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজমের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান জানিয়েছেন, যদিও রোহিঙ্গাদের জমি ধ্বংসের দায় নিশ্চিতভাবে কোনো একটি পক্ষের ওপর দেওয়ার সময় আসেনি, তবে চলমান সংঘাতের মাঝখানে রোহিঙ্গারা যে চরম বিপদের মুখে পড়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কয়েক দশক ধরে তারা নিপীড়ন ও সংঘাতের শিকার।

ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের সাবেক সদস্য অং কিয়াও মোয়ে মনে করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি এক চরম ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের ভৌত, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর আগে ২০১৬-১৭ সালে মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, যারা এখনো সেই বিভীষিকা বয়ে বেড়াচ্ছে।

ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের বয়ানে নিয়মিত কর আদায়, গবাদিপশু জব্দ, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং জোরপূর্বক সামরিক প্রশিক্ষণে বাধ্য করার মতো লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসছে। অনেক তরুণী ও নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজ, নাসার ফায়ার ডাটা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। ক্লান্ত হয়ে কেউ পড়ে গেলে তাকে রোদে ফেলে রাখা হতো বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের গ্রাম দখল ও নিরাপত্তা ঘটনায় আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বসতি ধ্বংস এবং তাদের জমি দখলের ঘটনা নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দেশটির সামরিক বাহিনীর পুরোনো কৌশলের আদলেই আরাকান আর্মি (এএ) রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন, বাস্তুচ্যুতি ও ভূমি দখলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে উত্তর রাখাইনের অধিকাংশ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকেই এমন অভিযোগ সামনে এসেছে। রোহিঙ্গারা পশ্চিম মিয়ানমারের একটি প্রধানত মুসলিম সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী।

জাতিসংঘের একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে অন্তত ২৩টি রোহিঙ্গা গ্রামের প্রায় ৮০০ হেক্টর জমি দখল করা হয়েছে। এসব জায়গায় নতুন শিবির স্থাপন, অন্য জনগোষ্ঠীর বসতি নির্মাণ কিংবা সামরিক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণকে সুসংহত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাধীন সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা অ্যাকলেডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বুথিডংয়ে ১০৩টি যুদ্ধের ঘটনা ঘটলেও ২০২৫ সালে তা কমে ১২টিতে দাঁড়ায়।

রোহিঙ্গাদের দাবি, তাদের বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। মুহাম্মদ আরেস নামে এক ১৮ বছর বয়সী রোহিঙ্গা জানান, ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সেখানে সামরিক চৌকি ও ব্যারাক নির্মাণ করা হয়েছে। ইয়েত ন্যো তাউং গ্রামের মোহাম্মদ সাদিক জানান, কৃষকদের জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করা হয় এবং তাদের দিয়েই ভারী সামরিক শ্রম ও পরিখা খননের কাজ করানো হচ্ছে। গাছপালা কেটে ফেলে বসতিগুলোর সব চিহ্ন মুছে দেওয়া হয়। ইয়েত ন্যো তাউং গ্রামের ২৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক বলেন, তাদের কৃষিকাজ বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং জানিয়ে দেওয়া হয় যে জমি আর তাদের নয়।

সংঘাতের মুখে থাকা সাধারণ রোহিঙ্গারা এখন জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। রাখাইনের ধানক্ষেতের ওপর হ্নগেট থে এলাকায় গড়ে তোলা অন্তত ১০টি শিবিরে এখনো বহু রোহিঙ্গা মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ লাখ।

২০২১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর রোহিঙ্গারা উভয় সংকটে পড়েছে। একদিকে মিয়ানমার জান্তা বাহিনী, অন্যদিকে আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষই তাদের ওপর নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও বাধ্যতামূলক শ্রম চাপিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় ভিডিও ফুটেজেও স্কুল, মসজিদ ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে গিয়ে অনেকে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ পথে মালয়েশিয়ার দিকে পা বাড়াচ্ছেন। সালামত খান নামের এক রোহিঙ্গা জানান, গ্রাম আক্রমণের সময় আরাকান আর্মির যোদ্ধারা তাদের সরাসরি বাংলাদেশে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছিল, “বাংলাদেশে চলে যাও, তোমাদের বাড়িঘর শেষ হয়ে গেছে, শরণার্থীশিবিরে যাও।”

মানবাধিকার লঙ্ঘনের এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বড় ধরনের অপরাধের ইঙ্গিত দেয়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের অধ্যাপক টম ড্যানেনবামের মতে, রোহিঙ্গাদের ওপর জবরদস্তি এবং তাদের বাস্তুচ্যুত করার এই সম্মিলিত প্রক্রিয়া ‘পপুলেশন ট্রান্সফার’ বা যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়তে পারে। ২০১৬-১৭ সালের নিপীড়নের ঘটনাগুলো এমনিতেই আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার অভিযোগে তদন্তাধীন রয়েছে।

তবে আরাকান আর্মি দাবি করেছে, তারা সব জাতিগোষ্ঠীর স্বার্থেই লড়াই করছে। মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘ-সমর্থিত ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজমের প্রধান নিকোলাস কুমজিয়ান জানিয়েছেন, যদিও রোহিঙ্গাদের জমি ধ্বংসের দায় নিশ্চিতভাবে কোনো একটি পক্ষের ওপর দেওয়ার সময় আসেনি, তবে চলমান সংঘাতের মাঝখানে রোহিঙ্গারা যে চরম বিপদের মুখে পড়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কয়েক দশক ধরে তারা নিপীড়ন ও সংঘাতের শিকার।

ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্টের সাবেক সদস্য অং কিয়াও মোয়ে মনে করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য পরিস্থিতি এক চরম ও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাদের ভৌত, রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক উপস্থিতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এর আগে ২০১৬-১৭ সালে মিয়ানমার বাহিনীর অভিযানে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল, যারা এখনো সেই বিভীষিকা বয়ে বেড়াচ্ছে।

ভুক্তভোগী রোহিঙ্গাদের বয়ানে নিয়মিত কর আদায়, গবাদিপশু জব্দ, চলাচলে বিধিনিষেধ এবং জোরপূর্বক সামরিক প্রশিক্ষণে বাধ্য করার মতো লোমহর্ষক বর্ণনা উঠে আসছে। অনেক তরুণী ও নারী শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্যাটেলাইট ইমেজ, নাসার ফায়ার ডাটা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতেই এই ভয়াবহ পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। ক্লান্ত হয়ে কেউ পড়ে গেলে তাকে রোদে ফেলে রাখা হতো বলেও তিনি অভিযোগ করেন।