ফেসবুকের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত সুচিত্রার বিয়ে সম্পন্ন
- আপডেট সময় : ০২:৪২:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
- / 0
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের সুজন চন্দ্র দাস ও কামনা রানী দাসের মেয়ে সুচিত্রা রানী দাসের বিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা অবশেষে দূর হয়েছে। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা সুচিত্রার এর আগে তিনবার বিয়ের আয়োজন করা হলেও অর্থাভাবে তা ভেঙে গিয়েছিল। বাবা সেলুনে কাজ করেন এবং মা আগে চালকলে কাজ করলেও অসুস্থতার কারণে বর্তমানে উপার্জনক্ষম নন। চার সদস্যের পরিবারে নিয়মিত দুবেলা খাবার জোগানো যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে বিয়ের ব্যয় বহন করা ছিল তাদের জন্য অসম্ভব।
সুচিত্রার অসহায়ত্বের বিষয়টি মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত মামুন বিশ্বাসের নজরে আসে। তিনি সুচিত্রার পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানবিক মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। সংগৃহীত মোট ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা দিয়ে গত শুক্রবার ধুমধাম আয়োজনে সুচিত্রার বিয়ে সম্পন্ন হয়। জামতৈল সূত্রধরপাড়ার সুচিত্রার সঙ্গে উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের পলাশ কুমার ভৌমিকের বিয়ে হয়েছে।
নিজের বিয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে সুচিত্রা জানান, এর আগে তিনবার বিয়ের উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি। মামুন বিশ্বাস পাশে না দাঁড়ালে হয়তো এবারও একই পরিণতি হতো। সুচিত্রার মা কামনা রানী বলেন, তাদের জীবন চালানোই দায়, মেয়ের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করার সামর্থ্য তাদের ছিল না। মামুন বিশ্বাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি জানান, এই সহায়তা তাদের পরিবারকে বড় ধরণের সংকট থেকে উদ্ধার করেছে।
মামুন বিশ্বাস জানান, ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ দিয়ে বিয়ের প্রয়োজনীয় আয়োজন শেষ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৩ হাজার টাকা সুচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এর কৃতিত্ব এককভাবে তার নয়, বরং দেশ-বিদেশের সেইসব মানুষের, যারা সাহায্যের জন্য এগিয়ে এসেছেন। মামুন বিশ্বাস আরও জানান, সুচিত্রার মতো এ পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক অসহায় মেয়ের বিয়ের জন্য তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে সহায়তা করেছেন। জানা গেছে, ওই মেয়েরা বর্তমানে নিজ নিজ সংসারে সুখে আছেন।





















