লালমনিরহাটে ‘বুড়িমারী স্থলবন্দর সম্প্রসারণ ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু

জেলার পাটগ্রাম উপজেলায় ‘বুড়িমারী স্থলবন্দর সম্প্রসারণ ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল নির্মাণ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি জানিয়েছেন, এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক ঋণ সহায়তা দিচ্ছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বুড়িমারী ইউনিয়নের বুড়িমারী ও ইসলামপুর মৌজার প্রায় ৬০ একর ৮৯ শতাংশ ভূমি অধিগ্রহণের জন্য লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের নিকট একটি প্রস্তাব দেয়। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের অনুমোদন পাওয়ার পরই মাঠপর্যায়ে ভূমির মালিকানা জরিপ ও ক্ষতিপূরণের জন্য তালিকা তৈরির কার্যক্রম শুরু হয়। সবশেষ গত ১৮ অক্টোবর লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন প্রথম দফায় বুড়িমারী মৌজার ৫টি খতিয়ানের ৬টি দাগে মোট ২ একর ৮৯শতক জমি অধিগ্রহণের জন্য স্থানীয় জমির মালিকদের ভূমি অধিগ্রহণ আপত্তি শুনানি কার্যক্রম শেষ করেছে। এতে কেউ আপত্তি করেনি বলে জানা গেছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, ১১ একর ১৫ শতক জমির উপর বুড়িমারী স্থলবন্দরটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পাসপোর্টযাত্রী ও আমদানি-রফতানি কারকদের সেবা দিয়ে আসছে। কিন্তু এই অল্প জায়গায় ১টি প্রশাসনিক ভবন, ৩টি ডিজিটাল ওয়েব্রীজ স্কেল, ১টি ফায়ার হাইড্রেন্ট সিস্টেম ভবন, ১টি শ্রমিক বিশ্রামাগার, শ্রমিক ও গাড়ী চালকদের জন্য ২টি টয়লেট কমপ্লেক্স, ২টি ৪শ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার শেড, ১টি ১হাজার মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার শেড, ২টি ট্রান্সশিপমেন্ট শেড ও ২টি ওপেন ইয়ার্ড রয়েছে। ফলে কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছিল না স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। অবশেষে এ সমস্যার সমাধান হতে চলেছে বলে বন্দর ব্যবহারকারী মনে করছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দরে কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার আব্দুল আলীম বলেন, পাসপোর্টধারি যাত্রী এবং আমদানি-রফতানি কার্যক্রমের তুলনায় বুড়িমারী স্থলবন্দরের সেবার মান কাঙ্খিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নিত হলে সেবার মান বৃদ্ধি-সহ বন্দর ব্যবহারকারিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘বুড়িমারী-চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর ব্যবহার করে প্রতিমাসে গড়ে ১২-১৩ হাজার পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল করে থাকে। এ স্থলবন্দর ব্যবহার করে প্রতিমাসে গড়ে ৯ থেকে ১০ হাজার বিদেশি ট্রাক ও ১৫শ’ থেকে ২হাজার দেশি ট্রাক পণ্য আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য ৬০ একর ৮৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করছে সরকার। বুড়িমারী স্থলবন্দর সম্প্রসারণ ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল’ প্রকল্পের আওতায় এই ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল ও আমদানি-রফতানি কার্যক্রম প্রক্রিয়া আরও আধুনিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে । এতে যেমন সরকারি রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সবধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে।’
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা (এলএ শাখা) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, চলতি বছর ১৮ অক্টোবর সরেজমিন বুড়িমারী মৌজার স্থলবন্দরের জিরোপয়েন্ট এলাকার ২৫০৪ দাগে ৯ শতক, ২৫০৫ দাগে ২৩ শতক, ২৫০৬ দাগে ৩৫ শতক, ২৫০৯ দাগে ৮১শতক, ২৫১০ দাগে ১শ ৩৩শতক ও ২৫১২ দাগে ৮শতক জমির উপর বসবাসকারী ও ভোগদখলদারদের নিকট থেকে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এলএ কেস নম্বর ১-এর শুনানি কার্যক্রম শেষ হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বাকী জমি অধিগ্রহণের জন্য শুনানি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ্ বলেন, ‘স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনাক্রমে ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে স্থলবন্দরটি আন্তর্জাতিকমানে উন্নয়ন করার জন্য অবকাঠামোগত নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে। পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পাশাপাশি আমদানি-রফতানি কারক ব্যবসায়ীদেরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।’
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, ‘১৯৮৮ সালে বুড়িমারী স্থলশুল্ক স্টেশন হিসেবে প্রথমে ভুটানের সঙ্গে সীমিত পরিসরে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ভারত ও নেপালের সঙ্গে এই রুটটি ব্যবহার হতে থাকে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ১১ একর ১৫ শতক জমির মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ হলে ২০১০ সালের ১০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ অপারেশন কার্যক্রম শুরু করে।’
তিনি বলেন, বর্তমানে এ স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী চলাচল ও আমদানি- রফতানি কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থান সংকুলান হচ্ছে না। তাই স্থলবন্দরটিকে আন্তর্জাতিকমানে উন্নয়নের জন্য দীর্ঘদিন থেকে সংসদে দাবী জানিয়ে আসছি। অবশেষে আধুনিকায়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছ। এই কার্যক্রম শেষ হলে বন্দর ব্যবহারকারীদের সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

বিডিসংবাদ/এএইচএস