ঢাকা ০৯:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাঁ-হাতি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড স্টার্কের এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে পদক লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে পারে ভারত-পাকিস্তান কোকোর নামে বগুড়ায় জাতীয় প্যারা স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কারাবন্দি ও পলাতক আসামিদের জন্য সাধারণ ক্ষমা আইন পাস করল লেবানন মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত দাবি সিনেটরদের জাপানের দাবিকৃত কুরিল দ্বীপপুঞ্জ সফর পুতিনের সুদানের রাজধানী খার্তুমে টানা দ্বিতীয় দিন আধাসামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলা সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন করা হবে: চিফ হুইপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল, ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই: ইসি সচিব রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলকে বেছে নিলেন প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একজন সুদক্ষ, সৎ ও সাফল্যবান নারী হৈমন্তী বড়ুয়া

  • আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
  • / 859
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গোটা পৃথিবীর পরিবর্তন ও উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নারীরা আজ এগিয়ে। বাংলাদেশের নারীরা আজ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে তাঁদের অবস্থান শক্ত করছে। কেউ কেউ তাঁদের মেধা ও বুদ্ধিতে সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তেমনি একজন নারীর সাথে আমরা আজ পরিচিত হব যিনি পরিশ্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন উদ্যোক্তার সাথে নিজের নাম জড়িত করেছেন সুনিপুণভাবে তিনি হচ্ছেন হৈমন্তী বড়ুয়া।

হৈমন্তী বড়ুয়া বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে। ২০০২ সালে হান্টার কলেজ থেকে ব্যবসায়ে ডাবল গ্রাজুয়েশান শেষ করেন এইচ আর এবং ম্যানেজমেন্ট এর উপর। তারপর  মাস্টার্স করেন যুগল বিষয়ের উপর—মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা।

হৈমন্তী বড়ুয়ার বাবা মা দুজনেই শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তার বাবা ভেবেছিলেন শুধুমাত্র তার মেয়ের কাছে সাফল্যই সফলতা। কিন্তু হৈমন্তী নিজের সাফল্যের পাশাপাশি তার দেশের তরুণ প্রজন্মের সাফল্যের কথাও ভেবেছিলেন। অন্যরা কীভাবে তার মতো অগ্রগতি করবে সে সম্পর্কে তিনি চিন্তা করতেন।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ থেকে নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করে তিনি  মেসি (Macy’s)-এর মানব সম্পদ বিভাগে যোগ দিয়েছেন নেতৃত্ব অর্জন করার জন্য। ২০০৭ সালে Macy’s কাজ করার সময় তিনি রিয়েল্টর ইনভেস্টমেন্ট এর সাথে কাজ শুরু করেন। সেই বছরেই তিনি ১৩টি বাড়ি কিনেছিলেন এবং সরাসরি জর্জিয়া্র আটলান্টায় চলে যান। এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সময় তিনি নতুন করে পরিচিত হলেন হোম কেয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। 

২০১৫ সাল থেকে তিনি একটি হোম কেয়ার পরিষেবার পরিচালক হিসাবে কাজ করছেন যেখানে বার্ষিক আয় ৪৬ মিলিয়ন ডলার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তাঁর ব্যাপারে বলেছেন, “হৈমন্তী অন্তত নয়জন মহিলাকে মুদির দোকান এবং শাড়ী ব্যবসায় সাহায্য করেছেন যারা হৈমন্তীকে তাদের একজন আদর্শ বলে মনে করেন।

তিনি বর্তমানে কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে (Kennesaw State University) মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করছেন।

তিনি বলেন, তার শখ লেখাপড়া করা– সার্টিফিকেটের জন্য নয়, সত্যিকারে জানার জন্য। তিনি আরও বলেন যে জ্ঞান অর্জন আমাদের কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজগুলির মধ্যে একটি; আমরা বেশিরভাগই জ্ঞান অর্জন করতে পছন্দ করি না; শুধু জ্ঞান দিতে চাই। তিনি কিসের জন্য গর্ব করেন? উত্তরে বললেন, “সরলতা, সরলতা আমার অহংকার।”

তাঁর পেশাদারিত্বে তিনি বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দিসহ পাঁচটি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন।

তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন যারা হয় নিজ দেশে থাকেন অথবা বিদেশে যারা প্রতিষ্ঠিত হতে ইচ্ছুক তাদের সততা, আনুগত্য ও কঠোর পরিশ্রমী মানসিকতা থাকতে হবে। এই তিনটি গুণ যে কোনো মানুষকে ছোট থেকে বড় করে।

তিনি আরও বলেন যে কোন ব্যক্তির অবশ্যই নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং নিজের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বুঝতে হবে নিজেই নিজের রক্ষক এবং ভক্ষক।

১০ বছর পর হৈমন্তী তার বাবা-মায়ের পেশাকেই তার নিজের পেশা হিসেবে নিবেন বলে জানালেন। অনেকেই শুধু নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তিনি  চান বাংলাদেশের সকল মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে।

হৈমন্তীর পছন্দের পোশাক শাড়ী; খাবার ডাল, ভাত, আর ভর্তা। হৈমন্তী সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন ব্যক্তিগত কাজে আর সফলতার পাশাপাশি দেশের জন্য আর ও অনেক কিছু করতে পারেন।

হৈমন্তী বড়ুয়া তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যে নিয়ে বলেন, “আমি আমার জীবনে অর্জন এবং গৌরব দেশের সকল নারীদের কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে রাখতে চাই যাতে নারীরা সকল বাধা অতিক্রম করে নিজেদের মাথা উচু করে রাখতে পারে । একজন সমাজ সেবক হয়ে মানুষের সেবা এবং পরোপকার করা মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।”

তিনি বিডিসংবাদের সম্পাদকসহ সকল কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ শুভকামনা জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একজন সুদক্ষ, সৎ ও সাফল্যবান নারী হৈমন্তী বড়ুয়া

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

গোটা পৃথিবীর পরিবর্তন ও উন্নয়নে পুরুষের পাশাপাশি নারীরও ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নারীরা আজ এগিয়ে। বাংলাদেশের নারীরা আজ দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে তাঁদের অবস্থান শক্ত করছে। কেউ কেউ তাঁদের মেধা ও বুদ্ধিতে সবাইকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তেমনি একজন নারীর সাথে আমরা আজ পরিচিত হব যিনি পরিশ্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন উদ্যোক্তার সাথে নিজের নাম জড়িত করেছেন সুনিপুণভাবে তিনি হচ্ছেন হৈমন্তী বড়ুয়া।

হৈমন্তী বড়ুয়া বড় হয়েছেন চট্টগ্রামে। ২০০২ সালে হান্টার কলেজ থেকে ব্যবসায়ে ডাবল গ্রাজুয়েশান শেষ করেন এইচ আর এবং ম্যানেজমেন্ট এর উপর। তারপর  মাস্টার্স করেন যুগল বিষয়ের উপর—মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা।

হৈমন্তী বড়ুয়ার বাবা মা দুজনেই শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত। তার বাবা ভেবেছিলেন শুধুমাত্র তার মেয়ের কাছে সাফল্যই সফলতা। কিন্তু হৈমন্তী নিজের সাফল্যের পাশাপাশি তার দেশের তরুণ প্রজন্মের সাফল্যের কথাও ভেবেছিলেন। অন্যরা কীভাবে তার মতো অগ্রগতি করবে সে সম্পর্কে তিনি চিন্তা করতেন।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ থেকে নিজ ইচ্ছায় পদত্যাগ করে তিনি  মেসি (Macy’s)-এর মানব সম্পদ বিভাগে যোগ দিয়েছেন নেতৃত্ব অর্জন করার জন্য। ২০০৭ সালে Macy’s কাজ করার সময় তিনি রিয়েল্টর ইনভেস্টমেন্ট এর সাথে কাজ শুরু করেন। সেই বছরেই তিনি ১৩টি বাড়ি কিনেছিলেন এবং সরাসরি জর্জিয়া্র আটলান্টায় চলে যান। এই রিয়েল এস্টেট ব্যবসার সময় তিনি নতুন করে পরিচিত হলেন হোম কেয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে। 

২০১৫ সাল থেকে তিনি একটি হোম কেয়ার পরিষেবার পরিচালক হিসাবে কাজ করছেন যেখানে বার্ষিক আয় ৪৬ মিলিয়ন ডলার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তাঁর ব্যাপারে বলেছেন, “হৈমন্তী অন্তত নয়জন মহিলাকে মুদির দোকান এবং শাড়ী ব্যবসায় সাহায্য করেছেন যারা হৈমন্তীকে তাদের একজন আদর্শ বলে মনে করেন।

তিনি বর্তমানে কেনেসো স্টেট ইউনিভার্সিটিতে (Kennesaw State University) মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করছেন।

তিনি বলেন, তার শখ লেখাপড়া করা– সার্টিফিকেটের জন্য নয়, সত্যিকারে জানার জন্য। তিনি আরও বলেন যে জ্ঞান অর্জন আমাদের কাছে সবচেয়ে কঠিন কাজগুলির মধ্যে একটি; আমরা বেশিরভাগই জ্ঞান অর্জন করতে পছন্দ করি না; শুধু জ্ঞান দিতে চাই। তিনি কিসের জন্য গর্ব করেন? উত্তরে বললেন, “সরলতা, সরলতা আমার অহংকার।”

তাঁর পেশাদারিত্বে তিনি বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দিসহ পাঁচটি ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলতে পারেন।

তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন যারা হয় নিজ দেশে থাকেন অথবা বিদেশে যারা প্রতিষ্ঠিত হতে ইচ্ছুক তাদের সততা, আনুগত্য ও কঠোর পরিশ্রমী মানসিকতা থাকতে হবে। এই তিনটি গুণ যে কোনো মানুষকে ছোট থেকে বড় করে।

তিনি আরও বলেন যে কোন ব্যক্তির অবশ্যই নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং নিজের জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। বুঝতে হবে নিজেই নিজের রক্ষক এবং ভক্ষক।

১০ বছর পর হৈমন্তী তার বাবা-মায়ের পেশাকেই তার নিজের পেশা হিসেবে নিবেন বলে জানালেন। অনেকেই শুধু নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তিনি  চান বাংলাদেশের সকল মানুষকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হতে।

হৈমন্তীর পছন্দের পোশাক শাড়ী; খাবার ডাল, ভাত, আর ভর্তা। হৈমন্তী সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন যেন ব্যক্তিগত কাজে আর সফলতার পাশাপাশি দেশের জন্য আর ও অনেক কিছু করতে পারেন।

হৈমন্তী বড়ুয়া তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্যে নিয়ে বলেন, “আমি আমার জীবনে অর্জন এবং গৌরব দেশের সকল নারীদের কাছে দৃষ্টান্ত হিসেবে রাখতে চাই যাতে নারীরা সকল বাধা অতিক্রম করে নিজেদের মাথা উচু করে রাখতে পারে । একজন সমাজ সেবক হয়ে মানুষের সেবা এবং পরোপকার করা মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই। সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।”

তিনি বিডিসংবাদের সম্পাদকসহ সকল কর্মকর্তাদের প্রতি বিশেষ শুভকামনা জানান।