ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিরাজুল ইসলাম মোল্লাকে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ এন্টি টেররিজম ইউনিটের নতুন নাম স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট নিষেধাজ্ঞার মুখেও সচল ইরানের আন্তর্জাতিক আকাশপথ চুয়াডাঙ্গায় পুলিশের ওপর হামলা, হ্যান্ডকাফসহ আ.লীগ নেতা পলাতক ফাইনালে যেতে পাকিস্তানকে ১১২ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারপ্রতি ৮ টাকা ৩৯ পয়সা বাড়ল অক্টোবর থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর বিদেশি কূটনীতির আবর্তে আচ্ছন্ন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি জাতীয়করণের অপেক্ষায় মাদারীপুরের শতবর্ষী এনায়েতনগর মাদরাসা জাইমা রহমানের জাতিসংঘে চাকরি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন মাহ্দী

কারাম উৎসবে মাতোয়ারা চলনবিলের আদিবাসী পল্লী

  • আপডেট সময় : ০১:০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 9
বিডিসংবাদ-এর সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রকৃতির বন্দনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আর ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নৃত্যের ছন্দে সিরাজগঞ্জের চলনবিলাঞ্চলের আদিবাসী পল্লীগুলোতে এখন বইছে উৎসবের হাওয়া। ভাদ্র মাসের পার্শ্ব একাদশী তিথিকে ঘিরে শুরু হয়েছে আদিবাসীদের প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘কারাম উৎসব’। বর্ষার শেষে প্রকৃতি যখন সবুজে ভরে ওঠে এবং কৃষিকাজে কিছুটা অবসর মেলে, তখনই বংশপরম্পরায় এই উৎসব পালন করে আসছেন স্থানীয় বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।

চলনবিলের সাতটি উপজেলায় অবস্থিত ৪৫ থেকে ৫০টিরও বেশি গ্রামে মাহাতো, কুর্মি, সাঁওতাল, ওঁরাও, বড়াইক, পাহান ও মাহালিসহ নানা আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জ জেলা আদিবাসী বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার খৈচালা নির্মল মাহাতো জানান, সময়ের পরিক্রমায় আদিবাসীদের অনেক ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি হারিয়ে গেলেও কারাম উৎসব এখনো তাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে টিকে আছে।

কারাম উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে প্রকৃতির শক্তি। পঞ্জিকা অনুযায়ী, পার্শ্ব একাদশী থেকে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। গত সোমবার ‘জাঁওয়া’ ডালায় বীজ থেকে চারাগাছ গজানোর মাধ্যমে এবারের আয়োজনের সূচনা হয়। বুধবার রাতে সম্পন্ন হয়েছে মূল পূজা ও ধর্মীয় আচার। স্থানীয় শিক্ষার্থী মৌমিতা মাহাতোর ভাষ্যমতে, প্রাচীন রীতি অনুযায়ী কারাম গাছের ডাল কেটে পূজা করা হয় বলেই অনেক এলাকায় একে ‘ডাল পূজা’ হিসেবে ডাকা হয়।

উৎসবের কঠোর নিয়মাবলির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী ‘কেরমেতি’দের পাঁচ থেকে সাত দিন আমিষ, তেল, হলুদ ও মসলাযুক্ত খাবার বর্জনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, নিয়ম পালনে ত্রুটি হলে জাঁওয়ায় অঙ্কুরিত বীজ হবে না। প্রতীকী ধারক জাঁওয়াকে আদিবাসীরা প্রকৃতির সন্তান মনে করে, যার যত্ন ও সংরক্ষণকে তারা প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে দেখে। মঙ্গলবার রাতে কারাম গাছের ডাল পুঁতে ফুল, শসা ও ফিতা দিয়ে সাজিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আরাধনা ও প্রার্থনা।

আদিবাসীদের বিশ্বাস, পরিবারের কল্যাণ এবং ফসলের মাঠ ভরে ওঠার কামনায় এই পূজা করা হয়। গ্রামের খোলা প্রাঙ্গণে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে চলে এই বিশেষ পূজা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এই উৎসব ঘিরে আয়োজিত হয় লোকজ সংস্কৃতির আসর। সেখানে ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নৃত্য ও লোকগানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই মেতে ওঠেন আনন্দের আদান-প্রদানে। প্রতিকূলতা আর পরিবর্তনের জোয়ারেও চলনবিলের মাটিতে আদিবাসীদের এই ঐক্য ও আনন্দের বন্ধন অটুট রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আদিবাসীদের কাছে কারাম শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি তারুণ্য, ঐক্য, আনন্দ ও সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে মাটি, মুগ, কুর্থি, ছোলা உள்ளிட்ட বিভিন্ন বীজ অঙ্কুরিত করে রাখা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ প্রকৃতির শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও পূজারই একটি অংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডালের গোড়ায় ডালা রেখে কাঁসার থালায় বরণডালা নিয়ে পূজায় অংশ নেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

কারাম উৎসবে মাতোয়ারা চলনবিলের আদিবাসী পল্লী

আপডেট সময় : ০১:০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকৃতির বন্দনা, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান আর ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নৃত্যের ছন্দে সিরাজগঞ্জের চলনবিলাঞ্চলের আদিবাসী পল্লীগুলোতে এখন বইছে উৎসবের হাওয়া। ভাদ্র মাসের পার্শ্ব একাদশী তিথিকে ঘিরে শুরু হয়েছে আদিবাসীদের প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘কারাম উৎসব’। বর্ষার শেষে প্রকৃতি যখন সবুজে ভরে ওঠে এবং কৃষিকাজে কিছুটা অবসর মেলে, তখনই বংশপরম্পরায় এই উৎসব পালন করে আসছেন স্থানীয় বিভিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।

চলনবিলের সাতটি উপজেলায় অবস্থিত ৪৫ থেকে ৫০টিরও বেশি গ্রামে মাহাতো, কুর্মি, সাঁওতাল, ওঁরাও, বড়াইক, পাহান ও মাহালিসহ নানা আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জ জেলা আদিবাসী বহুমুখী উন্নয়ন সংস্থার খৈচালা নির্মল মাহাতো জানান, সময়ের পরিক্রমায় আদিবাসীদের অনেক ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি হারিয়ে গেলেও কারাম উৎসব এখনো তাদের সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের জীবন্ত নিদর্শন হিসেবে টিকে আছে।

কারাম উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে প্রকৃতির শক্তি। পঞ্জিকা অনুযায়ী, পার্শ্ব একাদশী থেকে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। গত সোমবার ‘জাঁওয়া’ ডালায় বীজ থেকে চারাগাছ গজানোর মাধ্যমে এবারের আয়োজনের সূচনা হয়। বুধবার রাতে সম্পন্ন হয়েছে মূল পূজা ও ধর্মীয় আচার। স্থানীয় শিক্ষার্থী মৌমিতা মাহাতোর ভাষ্যমতে, প্রাচীন রীতি অনুযায়ী কারাম গাছের ডাল কেটে পূজা করা হয় বলেই অনেক এলাকায় একে ‘ডাল পূজা’ হিসেবে ডাকা হয়।

উৎসবের কঠোর নিয়মাবলির অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী ‘কেরমেতি’দের পাঁচ থেকে সাত দিন আমিষ, তেল, হলুদ ও মসলাযুক্ত খাবার বর্জনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাদের বিশ্বাস, নিয়ম পালনে ত্রুটি হলে জাঁওয়ায় অঙ্কুরিত বীজ হবে না। প্রতীকী ধারক জাঁওয়াকে আদিবাসীরা প্রকৃতির সন্তান মনে করে, যার যত্ন ও সংরক্ষণকে তারা প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার অংশ হিসেবে দেখে। মঙ্গলবার রাতে কারাম গাছের ডাল পুঁতে ফুল, শসা ও ফিতা দিয়ে সাজিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে আরাধনা ও প্রার্থনা।

আদিবাসীদের বিশ্বাস, পরিবারের কল্যাণ এবং ফসলের মাঠ ভরে ওঠার কামনায় এই পূজা করা হয়। গ্রামের খোলা প্রাঙ্গণে মাটির প্রদীপ জ্বালিয়ে চলে এই বিশেষ পূজা। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এই উৎসব ঘিরে আয়োজিত হয় লোকজ সংস্কৃতির আসর। সেখানে ঐতিহ্যবাহী ঝুমুর নৃত্য ও লোকগানে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠ সবাই মেতে ওঠেন আনন্দের আদান-প্রদানে। প্রতিকূলতা আর পরিবর্তনের জোয়ারেও চলনবিলের মাটিতে আদিবাসীদের এই ঐক্য ও আনন্দের বন্ধন অটুট রয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আদিবাসীদের কাছে কারাম শুধু ধর্মীয় আয়োজন নয়; এটি তারুণ্য, ঐক্য, আনন্দ ও সামাজিক বন্ধনেরও প্রতীক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে মাটি, মুগ, কুর্থি, ছোলা உள்ளிட்ட বিভিন্ন বীজ অঙ্কুরিত করে রাখা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পরিচর্যা ও সংরক্ষণ প্রকৃতির শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও পূজারই একটি অংশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডালের গোড়ায় ডালা রেখে কাঁসার থালায় বরণডালা নিয়ে পূজায় অংশ নেন তারা।